দোয়া মুমিনের অন্যতম বড় শক্তি। মানুষ যখন সব দরজা বন্ধ দেখতে পায়, তখনও আল্লাহর দরজা তার জন্য খোলা থাকে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” —সূরা গাফির, ৪০:৬০।
তবে দোয়া করার পাশাপাশি এমন কিছু কাজ থেকে বেঁচে থাকাও জরুরি, যেগুলো মানুষের দোয়া কবুলের পথে বাধা সৃষ্টি করে। কারণ শুধু মুখে দোয়া করলেই হবে না; আল্লাহর বিধান মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা দরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত “৩ ব্যক্তির দোয়া কখনো কবুল হয় না” কথাটিকে অনেক সময় এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন এটি নিঃসন্দেহে সহিহ বুখারি বা মুসলিমের হাদিস। আসলে যে বর্ণনায় তিন শ্রেণির মানুষের কথা এসেছে, সেটির সনদ ও নবী ﷺ-এর দিকে সম্বন্ধ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই এটিকে সরাসরি “সহিহ হাদিস” বলে নিশ্চিতভাবে প্রচার করা ঠিক নয়। তবে বর্ণনাটির শিক্ষা কুরআন-সুন্নাহর অন্যান্য মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চলুন জেনে নিই সেই তিন শ্রেণির মানুষ কারা এবং কেন তাদের ব্যাপারে এত কঠিন সতর্কতা এসেছে।
প্রথম ব্যক্তি: যে ব্যক্তি অসৎ/দুর্ব্যবহারকারী স্ত্রীকে রেখে দেয়, অথচ সমাধানের চেষ্টা করে না
বর্ণনায় এসেছে—
“তিন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দোয়া করে, কিন্তু তাদের দোয়া কবুল হয় না: এমন ব্যক্তি যার অধীনে অসৎ চরিত্রের/দুর্ব্যবহারকারী স্ত্রী রয়েছে অথচ সে তাকে তালাক দেয় না...”
এই বর্ণনাটি আবু মূসা আল-আশ‘আরী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং আল-হাকিমের আল-মুস্তাদরাক, তাবারী ও অন্যান্য গ্রন্থে এসেছে। তবে এর মারফু‘ হওয়া—অর্থাৎ সরাসরি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বক্তব্য হওয়া—নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি দূর করা জরুরি।
এর অর্থ এ নয় যে স্ত্রী কোনো ভুল করলেই স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দিতে হবে। সংসারে ভুল-ত্রুটি, রাগ, অভিমান, মতবিরোধ—এসব হতে পারে। ইসলাম বিচ্ছেদের আগে সংশোধন, নসিহত, পারিবারিক সমাধান ও ন্যায়বিচারের পথ দেখায়।
বরং বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো—কোনো ব্যক্তি যদি নিজের হাতে থাকা সমস্যার সমাধানের বৈধ পথ জেনেও একেবারে অবহেলা করে, তারপর শুধু আল্লাহর কাছে ফলাফল চায়, তাহলে সে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।
আমাদের জন্য শিক্ষা
আমাদের জীবনেও এমন হতে পারে। কেউ হয়তো ব্যবসায় লোকসান করছে, কিন্তু হিসাব রাখছে না। কেউ চাকরি চায়, কিন্তু চেষ্টা করছে না। কেউ সংসারে শান্তি চায়, কিন্তু নিজেই প্রতিদিন ঝগড়া সৃষ্টি করছে।
দোয়ার সঙ্গে সঠিক পদক্ষেপও দরকার।
আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।” —সূরা আর-রাদ, ১৩:১১।
অতএব, শুধু দোয়া নয়—নিজের কর্তব্যও পালন করতে হবে।
দ্বিতীয় ব্যক্তি: যে ব্যক্তি কাউকে ঋণ দেয়, কিন্তু কোনো সাক্ষী রাখে না
বর্ণনার দ্বিতীয় শ্রেণি হলো—
যে ব্যক্তি কারও কাছে পাওনা বা ঋণ দেয়, কিন্তু তা লিখে রাখে না বা সাক্ষী রাখে না।
এই বিষয়টি কুরআনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
আল্লাহ তাআলা সূরা আল-বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াতে ঋণের লেনদেন লিখে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণের লেনদেন হলে তা লিখে রাখতে এবং সাক্ষী রাখতে।
এর উদ্দেশ্য হলো—পরবর্তীতে যেন ভুল বোঝাবুঝি, অস্বীকার, ঝগড়া বা অধিকার নষ্ট না হয়।
আজকের সমাজে এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেশি।
ধরুন, আপনি একজন বন্ধুকে এক লাখ টাকা ধার দিলেন। কোনো কাগজ নেই, কোনো মেসেজ নেই, কোনো সাক্ষী নেই। কয়েক বছর পর সে বলল, “আমি তো টাকা নিইনি।”
তখন আপনি বিপদে পড়লেন।
এখানে ইসলাম মানুষের প্রতি অবিশ্বাস শেখাচ্ছে না; বরং সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য সুস্পষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলছে।
দোয়া ও দায়িত্ব
একজন মানুষ যদি নিজের অসতর্কতার কারণে বিপদে পড়ে এবং পরে শুধু দোয়া করতে থাকে, তাহলে তার নিজের ভুলও বিবেচনায় নিতে হবে।
ইসলাম বলে—আল্লাহর ওপর ভরসা করুন, কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষায় তাওয়াক্কুলের অর্থ অলস হয়ে বসে থাকা নয়।
আপনি ব্যবসা করবেন—হিসাব রাখবেন।
আপনি কাউকে টাকা ধার দেবেন—লিখিত চুক্তি করবেন।
আপনি জমি কিনবেন—কাগজপত্র যাচাই করবেন।
আপনি বিয়ে করবেন—মানুষের চরিত্র যাচাই করবেন।
তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন।
এটাই বাস্তব তাওয়াক্কুল।
তৃতীয় ব্যক্তি: যে ব্যক্তি অযোগ্য/অবিবেচক ব্যক্তির হাতে নিজের সম্পদ তুলে দেয়
বর্ণনার তৃতীয় শ্রেণি হলো—
যে ব্যক্তি কোনো অযোগ্য বা অবিবেচক ব্যক্তির হাতে নিজের সম্পদ তুলে দেয়।
বর্ণনায় সূরা আন-নিসার ৫ নম্বর আয়াতের অংশ উল্লেখ করা হয়েছে:
“আর তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের সম্পদ সমর্পণ করো না...” —সূরা আন-নিসা, ৪:৫।
এখানে “সাফিহ” বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অযোগ্য, অপরিণামদর্শী বা অপচয়কারী।
অর্থাৎ ইসলাম সম্পদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হতে শিক্ষা দেয়।
আপনার কাছে যদি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ থাকে এবং আপনি জানেন যে একজন ব্যক্তি সেটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে না, তারপরও তার হাতে সবকিছু তুলে দিয়ে নিজেই ক্ষতির মধ্যে পড়েন—তাহলে সেটি আপনার অবিবেচনাও হতে পারে।
আজকের সমাজে এর উদাহরণ
কেউ হয়তো অনলাইনে দ্রুত ধনী হওয়ার কথা শুনে সমস্ত সঞ্চয় কোনো অজানা ব্যক্তির হাতে তুলে দিলেন।
কেউ যাচাই না করে প্রতারণামূলক ব্যবসায় টাকা দিলেন।
কেউ নিজের সম্পদ এমন ব্যক্তির হাতে দিলেন, যে অর্থ ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ অযোগ্য।
তারপর ক্ষতি হলে বললেন, “আমি দোয়া করছি, আল্লাহ আমার টাকা ফিরিয়ে দিন।”
দোয়া অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে ভুলের কারণও সংশোধন করতে হবে।
তাহলে কি এসব মানুষের দোয়া একেবারেই কবুল হয় না?
এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে।
“দোয়া কবুল হয় না” কথাটিকে এমনভাবে বোঝা উচিত নয় যে আল্লাহ তাদের কোনো দোয়াই কখনো শুনবেন না এবং তাদের জন্য রহমতের দরজা চিরতরে বন্ধ।
আল্লাহ বলেন:
“আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” —সূরা গাফির, ৪০:৬০।
দোয়া কবুলের অর্থও সবসময় আমরা যেভাবে চাই সেভাবে ফল পাওয়া নয়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে—যদি সে কোনো গুনাহের দোয়া বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া না করে—আল্লাহ তাকে তিনটির একটি দান করেন: তার দোয়া কবুল করেন, অথবা অনুরূপ কোনো অকল্যাণ দূর করেন, অথবা আখিরাতের জন্য তা সঞ্চিত রাখেন—এ মর্মে মুসনাদ আহমাদে বর্ণনা রয়েছে।
তাই আজ দোয়া করে ফল না পেলেই বলা যাবে না, “আমার দোয়া কবুল হয়নি।”
হয়তো আল্লাহ অন্য বিপদ সরিয়ে দিয়েছেন।
হয়তো সময় এখনো আসেনি।
হয়তো আখিরাতের জন্য সওয়াব জমা হয়েছে।
দোয়া কবুলের পথে আরও বড় একটি বাধা: হারাম উপার্জন
সহিহ মুসলিমে রাসুলুল্লাহ ﷺ এমন একজন ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দীর্ঘ সফরে রয়েছে, চুল এলোমেলো, ধুলায় মলিন এবং আকাশের দিকে হাত তুলে “হে আমার রব, হে আমার রব” বলে দোয়া করছে। কিন্তু তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা পুষ্ট হয়েছে। এরপর রাসুল ﷺ প্রশ্ন করেছেন—তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?
এই হাদিসটি দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব স্পষ্ট করে।
অতএব আমাদের নিজেদের জিজ্ঞেস করা উচিত:
আমার উপার্জন কি হালাল?
আমি কি কারও হক নষ্ট করেছি?
আমি কি কারও টাকা আত্মসাৎ করেছি?
আমি কি ব্যবসায় প্রতারণা করছি?
আমি কি ওজনে কম দিচ্ছি?
আমি কি ঘুষ গ্রহণ করছি?
আমি কি অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছি?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখা জরুরি।
দোয়া কবুলের জন্য আমাদের কী করা উচিত?
১. তওবা করা
প্রথম কাজ হলো নিজের ভুল স্বীকার করা।
আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে বলুন:
“হে আল্লাহ, আমি ভুল করেছি। আমাকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন।”
তওবার অর্থ শুধু মুখে “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা নয়; বরং গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
২. মানুষের হক ফিরিয়ে দেওয়া
আপনি যদি কারও টাকা নিয়ে থাকেন, ফিরিয়ে দিন।
কারও অধিকার নষ্ট করে থাকলে সম্ভব হলে তা সংশোধন করুন।
কারও ওপর জুলুম করে থাকলে ক্ষমা চান।
কারণ বান্দার হক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. হালাল রিজিকের চেষ্টা করা
দোয়া করার পাশাপাশি হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে।
অল্প হলেও হালাল উপার্জন অনেক উত্তম।
৪. দোয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো না করা
সহিহ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে যতক্ষণ সে তাড়াহুড়ো করে বলে না—“আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হলো না।”
তাই দোয়া করে হতাশ হওয়া যাবে না।
৫. বাবা-মায়ের দোয়া নেওয়া
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একটি হাসান হাদিসে তিনটি দোয়ার কথা এসেছে—মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের দোয়া। এ বর্ণনাটি আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবন মাজাহসহ একাধিক গ্রন্থে এসেছে।
অতএব বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা এবং তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এবার নিজের দিকে তাকাই
এই লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—অন্যকে খুঁজে বের করা নয়, নিজেকে খুঁজে বের করা।
আমি কি এমন একজন, যে নিজের ভুল সংশোধন না করে শুধু দোয়া করি?
আমি কি ঋণের লেনদেনে কোনো লিখিত প্রমাণ রাখি না?
আমি কি অবিবেচকভাবে সম্পদ নষ্ট করি?
আমি কি হারাম উপার্জন করি?
আমি কি মানুষের হক নষ্ট করি?
আমি কি বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে তাদের দোয়া পাওয়ার আশা করি?
আমি কি দোয়া করে সঙ্গে সঙ্গে ফল না পেলে হতাশ হয়ে যাই?
যদি এসবের কোনো একটি আমাদের জীবনে থাকে, তাহলে আজ থেকেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
শেষ কথা
দোয়া কোনো জাদুর মন্ত্র নয়। দোয়া হলো বান্দার সঙ্গে রবের সম্পর্কের অন্যতম সুন্দর প্রকাশ।
আমরা আল্লাহর কাছে চাইব, কাঁদব, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করব। কিন্তু একই সঙ্গে আল্লাহর নির্দেশনাও মানব।
ঋণ দিলে লিখব।
সম্পদ ব্যবহারে বিচক্ষণ হব।
সংসারের সমস্যা হলে ন্যায়সংগত সমাধানের চেষ্টা করব।
হারাম উপার্জন ছেড়ে দেব।
মানুষের হক ফিরিয়ে দেব।
তওবা করব।
আর দোয়ার ফল পেতে দেরি হলে হতাশ হব না।
মনে রাখবেন, আল্লাহ আমাদের কথা শুনছেন। কখনো তিনি আমরা যা চাই তা দেন, কখনো তার চেয়ে উত্তম কিছু দেন, কখনো কোনো বিপদ দূর করেন, আবার কখনো সেই দোয়াকে আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখেন।
তাই আজ রাতে একবার নিজের হৃদয়কে প্রশ্ন করুন—
“আমি কি শুধু আল্লাহর কাছে চাইছি, নাকি আল্লাহ যা করতে বলেছেন সেটাও করার চেষ্টা করছি?”
এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো আমাদের দোয়া ও জীবনের অনেক সমস্যার সমাধানের প্রথম দরজা খুলে দিতে পারে।
আল্লাহ আমাদের হালাল রিজিক দান করুন, মানুষের হক আদায় করার তাওফিক দিন, গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং আমাদের দোয়াগুলো কবুল করুন। আমিন।
গুরুত্বপূর্ণ হাদিস-তথ্য
উল্লিখিত “তিন ব্যক্তি দোয়া করে, কিন্তু তাদের দোয়া কবুল হয় না”—বর্ণনাটি আল-মুস্তাদরাক, শরহু মুশকিলিল আছার, তাফসির তাবারি প্রভৃতি গ্রন্থে পাওয়া যায়। তবে এর সনদকে নবী ﷺ পর্যন্ত মারফু‘ হিসেবে গ্রহণের ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; অনেক বর্ণনাকারী এটিকে আবু মূসা (রা.)-এর বক্তব্য হিসেবে মওকুফ করেছেন। তাই এই বর্ণনাকে প্রচারের সময় “সহিহ বুখারি-মুসলিমের হাদিস” বলা উচিত নয়।
অন্যদিকে মজলুম, মুসাফির এবং বাবা-মায়ের দোয়া কবুল হওয়ার বর্ণনাটি তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবন মাজাহতে এসেছে এবং ইমাম তিরমিজি এটিকে হাসান বলেছেন।
