যাদের বিয়ে হচ্ছে না! বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন! “সূরা নূরের” এই আমলটি তাদের জন্য!

বিয়ের বয়স হয়ে গেছে, কিন্তু কোনোভাবেই বিয়ে হচ্ছে না—এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অনেক ছেলে-মেয়েই আজকাল যাচ্ছেন। কারও জন্য ভালো প্রস্তাব আসছে না, কারও প্রস্তাব এলেও শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো কারণে ভেঙে যাচ্ছে। আবার কারও পরিবারে আর্থিক সমস্যা, কারও পছন্দের সঙ্গে পরিবারের মতের মিল হচ্ছে না। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, কখনো বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে করতে একসময় মনে প্রশ্ন জাগে—“আমার বিয়ে কি আদৌ হবে?”

বিশেষ করে যখন আশপাশের সমবয়সীদের একে একে বিয়ে হয়ে যায়, তখন নিজের জীবন নিয়ে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আত্মীয়স্বজনের প্রশ্ন, প্রতিবেশীর মন্তব্য কিংবা পরিচিত মানুষের কৌতূহলী কথাও অনেক সময় এই দুশ্চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

কিন্তু একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দেরি মানেই বঞ্চিত হওয়া নয়। আল্লাহ কোনো কিছু দেরি করলে তার পেছনে হিকমত থাকতে পারে। আমরা ভবিষ্যৎ জানি না, কিন্তু আল্লাহ জানেন। তাই বিয়ে দেরি হচ্ছে বলে আল্লাহর ওপর হতাশ হওয়া যাবে না।

সূরা নূরে বিয়ে নিয়ে কী বলা হয়েছে?

বিয়ের প্রসঙ্গে সূরা নূরের ৩২ নম্বর আয়াত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

অর্থ: “তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে দিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ, তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।”
—সূরা আন-নূর, ২৪:৩২

এই আয়াতের মধ্যে বিয়ে নিয়ে অসাধারণ একটি শিক্ষা রয়েছে। অনেক মানুষ শুধু অর্থের অভাবের কারণে বিয়ে নিয়ে ভয় পান। মনে করেন, “আমার টাকা নেই, ভালো চাকরি নেই, নিজের বাড়ি নেই—তাহলে বিয়ে কীভাবে হবে?”

আয়াতটি আমাদের শেখায়, রিজিকের মালিক আল্লাহ। অবশ্যই এর অর্থ এই নয় যে মানুষ কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই বিয়ে করবে কিংবা দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবে না। বরং অর্থনৈতিক ও বাস্তব প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

তাহলে “সূরা নূরের আমল” কীভাবে করবেন?

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার। অনেক জায়গায় বলা হয়, সূরা নূরের ৩২ নম্বর আয়াত নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়লে অমুক সময়ের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাবে। এ ধরনের নির্দিষ্ট সংখ্যা, সময়সীমা বা নিশ্চিত ফলাফলের দাবি সহিহ কুরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।

তবে একজন মুসলিম হিসেবে কুরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করা, এর অর্থ বোঝা, আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং আয়াতের শিক্ষা অনুযায়ী আমল করা অবশ্যই উত্তম।

আপনি চাইলে প্রতিদিন নামাজের পর অথবা সুবিধাজনক সময়ে সূরা নূরের ৩২ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করতে পারেন। এরপর নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।

যেমন বলতে পারেন—

“হে আল্লাহ, আমার জন্য এমন জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন, যে আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হবে। আমার জন্য যা উত্তম নয়, তা থেকে আমাকে দূরে রাখুন এবং আমার জন্য যে বিয়েতে কল্যাণ রয়েছে, সেটি সহজ করে দিন।”

এটাই মূল বিষয়—শুধু মুখে আয়াত পড়া নয়, বরং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে কল্যাণ চাওয়া এবং হালাল পথে চেষ্টা করা।

বিয়ে দেরি হলে হতাশ হবেন না

অনেক সময় আমরা নিজের জীবনের সঙ্গে অন্যের জীবন তুলনা করি। বন্ধুর বিয়ে হয়ে গেছে, ছোট ভাইয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, এমনকি নিজের চেয়ে কম বয়সীদেরও বিয়ে হয়ে যাচ্ছে—তখন মনে হয়, “শুধু আমার জীবনেই কেন এমন হচ্ছে?”

কিন্তু মনে রাখবেন, মানুষের জীবন কোনো প্রতিযোগিতা নয়।

কারও বিয়ে ২২ বছরে হয়েছে, কারও ২৮ বছরে, কারও ৩৫ বছরে। কারও জীবনে দ্রুত ভালো মানুষ এসেছে, আবার কারও ক্ষেত্রে অনেক অপেক্ষার পর এসেছে। তাই অন্যের সময়সূচিকে নিজের জীবনের মাপকাঠি বানাবেন না।

আপনার জন্য নির্ধারিত বিষয় আপনার কাছে পৌঁছানোর আগে কেউ তা নিয়ে যেতে পারবে না।

তবে এর অর্থ বসে থাকা নয়। দোয়ার পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিয়ের জন্য চেষ্টা করার কয়েকটি হালাল উপায়:

  • পরিবার ও বিশ্বস্ত আত্মীয়দের জানানো যে আপনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত।
  • ভালো চরিত্র ও দ্বীনদার মানুষের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রস্তাব খোঁজা।
  • নিজের পছন্দ ও প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত রাখা।
  • অহেতুক বাহ্যিক সৌন্দর্য, অর্থ বা সামাজিক মর্যাদাকে একমাত্র মানদণ্ড না বানানো।
  • পাত্র-পাত্রীর দ্বীন, চরিত্র, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া।
  • সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইস্তিখারা করা এবং অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নেওয়া।

“রিজিক নেই তাই বিয়ে হচ্ছে না”—এভাবে ভাববেন না

কিছু মানুষ মনে করেন, “আমার ভাগ্যে বিয়ে নেই।” আবার কেউ বলেন, “আমার কপাল খারাপ।”

এ ধরনের হতাশাজনক চিন্তা মানুষকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। ভবিষ্যতে কী হবে, তা আমরা জানি না। তাই নিজের ব্যাপারে এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

সূরা নূরের ৩২ নম্বর আয়াত আমাদের আশা দেয়—অভাব থাকলেও আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে অভাব দূর করতে পারেন।

অবশ্যই একজন মানুষের আর্থিক দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি। কিন্তু শুধু অর্থের ভয়ে হালাল বিয়েকে অসম্ভব মনে করা ঠিক নয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ যুবকদের বিয়ের ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যুবকদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে; কারণ এটি দৃষ্টিকে সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে সহায়ক। আর যে সামর্থ্য রাখে না, তাকে তিনি রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
—সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৬৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪০০

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিয়ে শুধু সামাজিক প্রথা নয়; এটি একজন মুসলিমের পবিত্রতা ও আত্মসংযমের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

বিয়ের জন্য দোয়া করুন

বিয়ের ক্ষেত্রে কুরআনের একটি সুন্দর দোয়া হলো সূরা আল-ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াত—

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ:

“রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিওঁ ওয়াজ‘আলনা লিল মুত্তাকীনা ইমামা।”

অর্থ:

“হে আমাদের রব! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চোখের শীতলতা হবে এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।”
—সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৭৪

এই দোয়াটি শুধু অবিবাহিত ব্যক্তিই নয়, বিবাহিত মানুষও পড়তে পারেন। কারণ একজন মুমিনের চাওয়া হওয়া উচিত—শুধু বিয়ে নয়, বরং নেককার ও শান্তির কারণ হয় এমন জীবনসঙ্গী।

শুধু বিয়ে হলেই হবে না, ভালো বিয়ে চাইতে হবে

অনেক সময় আমরা বলি, “যেভাবেই হোক আমার বিয়েটা হয়ে যাক।”

কিন্তু একটু ভেবে দেখুন—বিয়ে জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক। ভুল মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া অনেক সময় বিয়ে না হওয়ার চেয়েও কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

তাই দোয়ার ভাষা এমন হওয়া উচিত নয় যে, “হে আল্লাহ, যেভাবেই হোক আমাকে বিয়ে দিন।”

বরং বলুন—

“হে আল্লাহ, আমাকে এমন জীবনসঙ্গী দিন, যার সঙ্গে আমার ঈমান বৃদ্ধি পাবে, চরিত্র সুন্দর হবে, সংসারে শান্তি আসবে এবং আমরা একে অপরকে জান্নাতের পথে সহযোগিতা করতে পারব।”

এমন দোয়া মানুষের মনকেও সুন্দর করে।

ইস্তিগফার ও তাওবার গুরুত্ব

বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলে ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত আমল বানানো যেতে পারে।

আল্লাহ তাআলা সূরা নূহে তাঁর বান্দাদের বলেন—

“তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল।”

এরপর বৃষ্টি, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
—সূরা নূহ, ৭১:১০–১২

ইস্তিগফার কোনো “বিয়ে পাওয়ার ম্যাজিক ফর্মুলা” নয়। বরং এটি আল্লাহর কাছে ফিরে আসার একটি ইবাদত।

তাই প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বলুন—

“আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি।”

গুনাহ থেকে তাওবা করুন, নামাজ ঠিক করুন, মানুষের হক নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দিন এবং নিজের জীবনকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে নিয়ে যান।

তাহাজ্জুদের সময় দোয়া করুন

যখন চারপাশ নীরব থাকে, মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন আপনি যদি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কষ্টের কথা বলেন—এটি একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সময়।

তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে নিজের ভাষায় দোয়া করুন।

বলুন—

“হে আমার রব, আপনি আমার অন্তরের সব কথা জানেন। আমি জানি না আমার জন্য কে ভালো, কিন্তু আপনি জানেন। আমার জন্য এমন জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন, যার মধ্যে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। যদি কোনো সম্পর্ক আমার জন্য ক্ষতিকর হয়, তাহলে সেটি আমার কাছ থেকে সরিয়ে দিন। আর যদি কোনো সম্পর্ক আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে সেটিকে হালাল ও সহজ করে দিন।”

এভাবে দোয়া করলে শুধু বিয়ে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর ভরসাও তৈরি হয়।

বিয়ে না হওয়ার কারণে নিজের মূল্য কম ভাববেন না

একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—বিয়ে আপনার মূল্য নির্ধারণ করে না।

বিয়ে হয়েছে মানেই কেউ সফল, আর বিয়ে হয়নি মানেই কেউ ব্যর্থ—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

আপনি একজন মানুষ, একজন আল্লাহর বান্দা। আপনার সম্মান আপনার তাকওয়া, চরিত্র, আমল ও মানবিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাই আত্মীয়ের কথায়, প্রতিবেশীর কথায় বা সামাজিক চাপের কারণে নিজের আত্মসম্মান নষ্ট করবেন না।

কেউ যদি বারবার জিজ্ঞেস করে, “তোমার বিয়ে হচ্ছে না কেন?”—আপনাকে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই।

হেসে বলতে পারেন, “আল্লাহ যখন কল্যাণ মনে করবেন, তখনই হবে ইনশাআল্লাহ।”

এই বিশ্বাস মানুষকে অনেক মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

বিয়ের জন্য নিজেকেও প্রস্তুত করুন

আমরা প্রায় সবাই এমন একজন জীবনসঙ্গী চাই, যে ভালো হবে, বুঝবে, সম্মান করবে, দায়িত্বশীল হবে। কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করি কি—আমি কি নিজেও এমন একজন জীবনসঙ্গী হওয়ার জন্য প্রস্তুত?

আপনি যদি একজন ভালো স্বামী চান, তাহলে নিজেকেও ভালো স্বামী হওয়ার জন্য প্রস্তুত করুন। আপনি যদি ভালো স্ত্রী চান, তাহলে নিজেকেও ভালো স্ত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তুত করুন।

নিজের মধ্যে গড়ে তুলুন—

  • সুন্দর চরিত্র
  • ধৈর্য
  • দায়িত্ববোধ
  • সত্যবাদিতা
  • রাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা
  • অর্থনৈতিক সচেতনতা
  • পারিবারিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান
  • দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা
  • মানুষের প্রতি সহানুভূতি

কারণ বিয়ে শুধু ভালোবাসার সম্পর্ক নয়; এটি দায়িত্বের সম্পর্কও।

প্রস্তাব এলে শুধু বাহ্যিক বিষয় দেখবেন না

অনেক সময় বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষ পাত্র বা পাত্রীর চাকরি, বাড়ি, গাড়ি, চেহারা কিংবা সামাজিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এগুলো একেবারে অপ্রয়োজনীয় নয়, কিন্তু এগুলোই সবকিছু নয়।

একজন মানুষের চরিত্র কেমন, সে বাবা-মায়ের সঙ্গে কেমন আচরণ করে, দুর্বল মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে, রাগের সময় নিজেকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে—এসবও গুরুত্বপূর্ণ।

বিয়ের আগে যথাযথভাবে খোঁজ নেওয়া উচিত। তবে গোপনীয়তা লঙ্ঘন, অপবাদ বা অযাচাইকৃত কথা ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

দোয়ার সঙ্গে চেষ্টা—দুটোই দরকার

কেউ যদি বলে, “আমি শুধু সূরা নূরের আয়াত পড়ব, আর কোনো চেষ্টা করব না”—তাহলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ হয়ে যায়।

ইসলাম আমাদের দোয়া করতে শেখায়, আবার চেষ্টা করতেও শেখায়।

আপনি যদি বিয়ে করতে চান, তাহলে পরিবারকে জানান। বিশ্বস্ত মানুষদের মাধ্যমে প্রস্তাব খুঁজুন। নিজের চরিত্র ও যোগ্যতা উন্নত করুন। প্রয়োজনীয় আর্থিক পরিকল্পনা করুন। সঠিক মানুষ এলে যাচাই করুন। তারপর ইস্তিখারা ও পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিন।

অর্থাৎ—

দোয়া + ইবাদত + আত্মশুদ্ধি + বাস্তব চেষ্টা + আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল—এই পথেই এগিয়ে চলুন।

শেষ কথা

যাদের বিয়ে হচ্ছে না, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় কথা হলো—হতাশ হবেন না।

আজ আপনার যে অপেক্ষা, হয়তো একদিন সেটিই আপনার জীবনের সুন্দর একটি গল্প হয়ে দাঁড়াবে। আজ যে দরজা বন্ধ মনে হচ্ছে, আল্লাহ চাইলে অন্য একটি দরজা খুলে যেতে পারে।

সূরা নূরের ৩২ নম্বর আয়াত পড়ুন, এর অর্থ বুঝুন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। ইস্তিগফার করুন। তাহাজ্জুদ পড়ুন। নিজের চরিত্র ও জীবনকে সুন্দর করার চেষ্টা করুন। একই সঙ্গে হালাল উপায়ে বিয়ের চেষ্টা চালিয়ে যান।

তবে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নির্দিষ্ট দিনে কোনো আয়াত পড়লেই নিশ্চিত বিয়ে হবে—এমন দাবি করবেন না এবং এমন দাবিতে বিশ্বাসও করবেন না, যদি তার নির্ভরযোগ্য শরয়ি প্রমাণ না থাকে।

মনে রাখবেন, আল্লাহর কাছে দেরি আছে, কিন্তু অবহেলা নেই। আপনি আজ যে দোয়াটি করছেন, তার উত্তর হয়তো আপনার প্রত্যাশিত সময়ে আসবে, হয়তো অন্যভাবে আসবে, আবার কখনো আল্লাহ আপনার চাওয়ার চেয়েও উত্তম কিছু নির্ধারণ করবেন।

তাই দোয়া করতে থাকুন—

“হে আল্লাহ, আমার জন্য এমন জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন, যে আমার দুনিয়ার শান্তি এবং আখিরাতের কল্যাণের কারণ হবে। আমার জন্য যা ক্ষতিকর, তা থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আর আমার জন্য যে বিয়েতে কল্যাণ রয়েছে, সেটিকে সহজ, পবিত্র ও বরকতময় করে দিন। আমিন।”

সবশেষে একটি কথা—বিয়ে দেরি হওয়াকে নিজের জীবনের শেষ কথা মনে করবেন না। আপনার গল্প এখনো শেষ হয়নি। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, নিজের চেষ্টা চালিয়ে যান এবং বিশ্বাস করুন—আপনার জন্য যা কল্যাণকর, আল্লাহ তা-ই সর্বোত্তমভাবে জানেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম