শীত আসতে শুরু করলেই মা-বাবার মনে নানা ধরনের চিন্তা দেখা দেয়। বিশেষ করে যাঁদের ঘরে ছোট বাচ্চা রয়েছে, তাঁরা সন্তানকে ঠান্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা শ্বাসকষ্ট থেকে কীভাবে নিরাপদ রাখবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। কারণ শীতকালে শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে শিশুরা সহজেই বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে সুস্থ রাখতে শুধু গরম কাপড় পরানো কিংবা ঠান্ডা পানি থেকে দূরে রাখাই যথেষ্ট নয়। শিশুর বয়স অনুযায়ী নিয়মিত টিকাদান, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে হবে। এর পাশাপাশি শীতের আগে যে টিকাটি নিয়ে অনেক অভিভাবক জানতে চান, সেটি হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু ভ্যাকসিন।
তবে শুরুতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। প্রতিবছর শীতের শুরুতে সব শিশুকে কোনো একটি টিকা দিতেই হবে—এমন সর্বজনীন নিয়ম নেই। শিশুর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, আগের টিকা নেওয়ার ইতিহাস এবং দেশের টিকাদান নির্দেশিকা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা অনেক শিশুর জন্য উপকারী হলেও এটি দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
![]() |
শীতের আগে শিশুদের ফ্লু টিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে এর কিছু লক্ষণের মিল থাকলেও ফ্লু অনেক সময় বেশি গুরুতর হতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশু, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে।
ফ্লু ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি ও শ্বাসতন্ত্রের নিঃসৃত ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা কিংবা দূষিত হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করার মাধ্যমেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একটি শিশু যখন স্কুলে যায়, ডে-কেয়ারে থাকে কিংবা অনেক শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা করে, তখন তার সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ বেড়ে যায়। তাই শীতের মৌসুমে শিশুকে ফ্লু থেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে আগেভাগে চিন্তা করা প্রয়োজন।
ফ্লু ভ্যাকসিনের প্রধান উপকারিতা হলো:
- ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- টিকা নেওয়ার পরও ফ্লু হলে গুরুতর অসুস্থতা ও কিছু জটিলতার ঝুঁকি কমাতে পারে।
- নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ফ্লুজনিত গুরুতর সমস্যার আশঙ্কা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, ফ্লু ভ্যাকসিন শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। এটি সাধারণ সর্দি-কাশি, সব ধরনের জ্বর কিংবা অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধও করে না।
কোন বয়সের শিশুদের ফ্লু টিকা দেওয়া যায়?
সাধারণভাবে ছয় মাস বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা ব্যবহৃত হয়। তবে শিশুর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং টিকার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন কোন টিকা উপযুক্ত।
বিশেষ করে যেসব শিশুর হাঁপানি, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের সমস্যা কিংবা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ফ্লু প্রতিরোধের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।
এখানে একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে সাধারণত ফ্লু ভ্যাকসিন দেওয়া হয় না। এই বয়সে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে পরিবারের সদস্যদের টিকা নেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
আবার সব শিশুর জন্য একই ডোজ বা একই সময়সূচি প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে যেসব শিশু প্রথমবার ফ্লু টিকা নিচ্ছে, তাদের বয়স ও পূর্বের টিকাদানের ইতিহাস বিবেচনা করে একাধিক ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে চিকিৎসক বা টিকাদানকেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
প্রতিবছর কি এই টিকা দিতে হয়?
হ্যাঁ, ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা সাধারণত প্রতিবছর নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যদি শিশুর বয়স ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ভিত্তিতে টিকাটি উপযুক্ত হয়।
এর প্রধান কারণ দুটি। প্রথমত, ফ্লু ভাইরাসের ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আগের টিকা থেকে তৈরি হওয়া সুরক্ষা সময়ের সঙ্গে কমে যেতে পারে। তাই নতুন মৌসুমে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকা ভাইরাসের ধরন বিবেচনা করে ফ্লু ভ্যাকসিনের গঠন নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
গত বছর শিশুকে ফ্লু টিকা দেওয়া হয়েছিল বলে এ বছর আর প্রয়োজন নেই—এমন ধারণা সঠিক নয়। আবার শুধু শীত শুরু হয়েছে বলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো টিকা দিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশে ফ্লুর প্রকোপ ও মৌসুমি সংক্রমণের ধরন সব সময় শীতপ্রধান দেশের মতো নাও হতে পারে। তাই টিকা নেওয়ার উপযুক্ত সময় স্থানীয় পরিস্থিতি, টিকার প্রাপ্যতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা ভালো।
ফ্লু টিকা দেওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কখন?
অনেক অভিভাবক শীতের প্রথম দিকে শিশুকে টিকা দেওয়ার কথা ভাবেন। এটি পরিকল্পনার একটি ভালো সময় হতে পারে। তবে টিকা দেওয়ার সঠিক সময় নির্ভর করে স্থানীয় সংক্রমণের ধরন এবং ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতার ওপর।
টিকা নেওয়ার পর শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে। তাই ফ্লুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগেই টিকা নেওয়া উপকারী হতে পারে।
শিশুকে টিকা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন:
- আপনার শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে কি না।
- এর আগে সে ফ্লু ভ্যাকসিন নিয়েছে কি না।
- তার কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে কি না।
- আগের কোনো টিকায় গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হয়েছিল কি না।
- স্থানীয়ভাবে অনুমোদিত টিকা এবং তার সঠিক ডোজ পাওয়া যাচ্ছে কি না।
এসব তথ্য চিকিৎসককে জানালে তিনি শিশুর জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ফ্লু টিকা দিলে কি শিশুর জ্বর বা অন্য কোনো সমস্যা হয়?
এই প্রশ্নটি প্রায় সব মা-বাবার মনেই আসে। অনেকেই মনে করেন, টিকা দিলে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়বে। বাস্তবে ফ্লু টিকার পর কিছু সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, তবে সেগুলো সাধারণত মৃদু এবং অল্প সময়ের মধ্যে সেরে যায়।
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথা, লালচে ভাব বা সামান্য ফোলা।
- হালকা জ্বর।
- শরীরে ব্যথা বা ক্লান্তি।
- মাথাব্যথা কিংবা অস্বস্তি।
এসব লক্ষণ দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে শিশুর জ্বর বেশি হলে, দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থতা থাকলে কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া খুব বিরল হলেও ঘটতে পারে। টিকা দেওয়ার পর শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
আরেকটি বিষয় মনে রাখুন, সাধারণ ইনজেকশনযোগ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নিষ্ক্রিয় ভাইরাস বা ভাইরাসের অংশ দিয়ে তৈরি হয়। তাই এই টিকা থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ হয় না। তবে টিকা নেওয়ার আগেই শিশু অন্য কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে পরে জ্বর বা সর্দি দেখা দিতে পারে। তখন অনেক অভিভাবক ভুল করে টিকাকেই অসুস্থতার কারণ মনে করেন।
কোন শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন?
প্রত্যেক শিশুর শারীরিক অবস্থা এক রকম নয়। তাই টিকা দেওয়ার আগে শিশুর চিকিৎসা-ইতিহাস জানা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো চিকিৎসককে জানাতে হবে:
১. আগে কোনো টিকা নেওয়ার পর গুরুতর অ্যালার্জি হয়েছিল কি না।
২. শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম কি না বা সে এমন কোনো ওষুধ খাচ্ছে কি না, যা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।
৩. বর্তমানে শিশুর মাঝারি বা গুরুতর অসুস্থতা কিংবা বেশি জ্বর রয়েছে কি না।
৪. শিশুর কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে কি না।
সব ক্ষেত্রে টিকা বন্ধ রাখতে হয় এমন নয়। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে অসুস্থতার ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী টিকা দেওয়া সম্ভব হয়। আবার বিশেষ পরিস্থিতিতে টিকা দেওয়ার সময় পিছিয়ে দিতে বা নির্দিষ্ট ধরনের টিকা এড়িয়ে চলতে হতে পারে। তাই নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ফ্লু টিকা কি নিউমোনিয়া থেকে শিশুকে সম্পূর্ণ রক্ষা করবে?
এখানে একটি ভুল ধারণা দূর করা জরুরি। ফ্লু ভ্যাকসিন নিউমোনিয়ার সব কারণ প্রতিরোধ করে না। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস নিজেই নিউমোনিয়া ঘটাতে পারে, আবার ফ্লুর পর অন্য জীবাণুর সংক্রমণ থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে।
ফ্লু টিকা ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত কিছু জটিলতার ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু সব ধরনের নিউমোনিয়া থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয় না।
শিশুর বয়স অনুযায়ী নিয়মিত টিকাদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ও চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিউমোকক্কাল, হিব এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক টিকা শিশুকে নির্ধারিত সময়ে দিতে হবে। এগুলো ফ্লু ভ্যাকসিনের বিকল্প নয়; বরং ভিন্ন ভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
শিশুর টিকাকার্ড পরীক্ষা করে দেখুন কোনো টিকা বাকি আছে কি না। কোনো ডোজ বাদ পড়লে কীভাবে তা পূরণ করা যাবে, সে বিষয়ে টিকাদানকেন্দ্র থেকে পরামর্শ নিন।
শীতকালে শিশুকে সুস্থ রাখতে টিকার পাশাপাশি যা করবেন
শুধু টিকা দিলেই শিশুর সব ধরনের অসুস্থতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। শিশুর দৈনন্দিন যত্ন, পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মা-বাবা টিকা দেওয়ার পর অন্য কোনো সতর্কতা প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে শিশুকে সুস্থ রাখতে একাধিক অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার।
১. নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন
শিশুকে খাবার খাওয়ার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পর এবং বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করান। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে মা-বাবাকেও এই নিয়ম মেনে চলতে হবে।
২. অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
পরিবারের কেউ সর্দি-কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত হলে শিশুর কাছাকাছি থাকার সময় সতর্ক থাকুন। সম্ভব হলে অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ কমিয়ে দিন। কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করাও জরুরি।
৩. পুষ্টিকর খাবার দিন
শিশুর বয়স অনুযায়ী ডিম, মাছ, ডাল, শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দিন। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে বুকের দুধই প্রধান খাবার। শিশুর বয়স অনুযায়ী পরিপূরক খাবার শুরু করার বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করুন।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
শিশুর বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করুন। নিয়মিত ঘুম শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৫. প্রয়োজন অনুযায়ী গরম কাপড় পরান
শীতের সময় শিশুকে আরামদায়ক পোশাক পরান। তবে অতিরিক্ত কাপড় পরিয়ে ঘামিয়ে ফেলা উচিত নয়। শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ও আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করুন।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
শিশুর জ্বর বা কাশি হলেই যে গুরুতর কোনো রোগ হয়েছে, তা নয়। কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
যেমন:
- শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
- ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া।
- শিশু অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়া বা জাগানো কঠিন হওয়া।
- পানি বা বুকের দুধ খেতে না পারা।
- প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেওয়া।
- তিন মাসের কম বয়সী শিশুর তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়া।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
মা-বাবার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
শিশুর টিকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কিংবা অন্যের অভিজ্ঞতার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করবেন না। একটি শিশুর জন্য যে টিকা উপযুক্ত, অন্য শিশুর ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে—এমন নয়।
টিকা দেওয়ার আগে মনে রাখুন:
- শিশুর টিকাকার্ড সঙ্গে রাখুন।
- টিকার নাম, মেয়াদ এবং সংরক্ষণের নিয়ম সম্পর্কে টিকাদানকেন্দ্রে নিশ্চিত হোন।
- শিশুর আগের কোনো গুরুতর অ্যালার্জি বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- টিকা দেওয়ার পর কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির নিয়মিত টিকাগুলো সময়মতো সম্পন্ন করুন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিভিন্ন দেশের রোগের প্রকোপ, স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন ও সামর্থ্য বিবেচনা করে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকাদান কর্মসূচি নির্ধারণের পরামর্শ দেয়। তাই বাংলাদেশে আপনার শিশুর জন্য টিকাটি কতটা প্রয়োজনীয় এবং কখন নেওয়া ভালো, তা স্থানীয় চিকিৎসক বা নির্ভরযোগ্য টিকাদানকেন্দ্র থেকে জেনে নিন।
শেষ কথা
শীতের শুরুতে সন্তানের সুস্থতা নিশ্চিত করতে মা-বাবার সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু ভ্যাকসিন উপযুক্ত বয়সের শিশুদের ফ্লুজনিত অসুস্থতা ও জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি সব ধরনের সর্দি-কাশি বা জ্বর থেকে সুরক্ষা দেয় না, আর সব শিশুর জন্য একই টিকাদান পরিকল্পনাও প্রযোজ্য নয়।
তাই আপনার শিশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও আগের টিকাদানের ইতিহাস বিবেচনা করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত টিকাদানের দিকে নজর দিন।
মনে রাখবেন, সন্তানের অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে আগে থেকেই সচেতন হওয়াও দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আপনার সন্তানের কি আগে কখনো ফ্লু ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে? শীতকালে শিশুকে সুস্থ রাখতে আপনি কী কী ব্যবস্থা নেন? আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানাতে পারেন।
তথ্যসূত্র
১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO): মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা ও টিকাদান নীতি
২. যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC): শিশুদের ফ্লু ও টিকাদান
৩. CDC: ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার ডোজ ও প্রয়োগবিধি
স্বাস্থ্য-সতর্কতা: এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যশিক্ষার উদ্দেশ্যে। এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুকে টিকা দেওয়ার আগে যোগ্য চিকিৎসক বা টিকাদানকেন্দ্রের পরামর্শ নিন।
