হার্ট অ্যাটাকের যেসব লক্ষণ কখনোই এড়িয়ে যাবেন না!

 হার্ট অ্যাটাক এমন একটি জরুরি অবস্থা, যেখানে হৃদপিণ্ডের কোনো অংশে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছানো হঠাৎ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় মানুষ মনে করেন হার্ট অ্যাটাক মানেই হঠাৎ তীব্র বুকব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা বুকে হাত দিয়ে পড়ে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবে সব হার্ট অ্যাটাক একইভাবে শুরু হয় না। কারও ক্ষেত্রে লক্ষণ খুব তীব্র হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে শুরুতে অল্প অস্বস্তি, বদহজমের মতো অনুভূতি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এতটাই হালকা হতে পারে যে মানুষ তা গুরুত্বই দেন না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে অপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে হৃদপেশির ক্ষতি কমানোর সুযোগ থাকে। তাই নিজের বা কাছের কারও শরীরে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে “দেখি একটু পরে ঠিক হয় কি না” বলে বসে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাক আসলে কী?

আমাদের হৃদপিণ্ড সারাক্ষণ শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত পাঠায়। হৃদপিণ্ড নিজেও অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পাওয়ার জন্য করোনারি ধমনির ওপর নির্ভর করে। ধমনির ভেতরে চর্বি ও অন্যান্য পদার্থ জমে প্লাক তৈরি হতে পারে। কোনো সময় সেই প্লাকের ওপর রক্তের জমাট তৈরি হয়ে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করলে হৃদপেশির একটি অংশ অক্সিজেনের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এ অবস্থাই হার্ট অ্যাটাকের মূল কারণগুলোর একটি।

তাই হার্ট অ্যাটাককে সাধারণ বুকব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা ভেবে ঘরে বসে থাকা উচিত নয়। কারণ বুকের অস্বস্তির পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হলে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. বুকের মাঝখানে চাপ, ব্যথা বা অস্বস্তি

হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে চাপ বা অস্বস্তি। অনেকেই এটাকে ব্যথা হিসেবে অনুভব করেন, আবার কেউ কেউ বলেন বুকের ওপর যেন ভারী কিছু রাখা হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে চাপ, চেপে ধরা, জ্বালাপোড়া বা শক্ত হয়ে আসার মতো অনুভূতিও হতে পারে।

এই অস্বস্তি কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে, আবার কিছুক্ষণ কমে গিয়ে পরে ফিরে আসতে পারে। তাই ব্যথা একটু কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষ করে যদি বুকের অস্বস্তির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরা থাকে, তাহলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া দরকার।

২. ব্যথা হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সবসময় শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্যথা বা অস্বস্তি এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা ওপরের পেটেও অনুভূত হতে পারে।

অনেক সময় মানুষ মনে করেন, “বুকে তো খুব বেশি ব্যথা নেই, তাই হার্টের সমস্যা হবে না।” এই ধারণা ভুল হতে পারে। শরীরের উপরের অংশে অস্বাভাবিক ব্যথা বা চাপের সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

৩. হঠাৎ শ্বাসকষ্ট

কোনো কঠিন কাজ না করেও যদি হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুক ভার লাগে বা মনে হয় পর্যাপ্ত বাতাস পাচ্ছেন না, তাহলে সেটি অবহেলা করবেন না।

শ্বাসকষ্ট বুকব্যথার সঙ্গে হতে পারে, আবার বুকব্যথা ছাড়াও হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

বিশেষ করে আগে এমন সমস্যা না থাকলে এবং হঠাৎ শ্বাসকষ্টের সঙ্গে দুর্বলতা, ঘাম বা মাথা ঘোরা দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

৪. অস্বাভাবিক ঠান্ডা ঘাম

পরিশ্রম, গরম আবহাওয়া বা ব্যায়ামের কারণে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ শরীর ঠান্ডা ঘামে ভিজে যাওয়া হার্ট অ্যাটাকের সতর্কসংকেত হতে পারে।

বিশেষ করে ঠান্ডা ঘামের সঙ্গে বুকের চাপ, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে এটিকে সাধারণ ঘাম ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

৫. বমি বমি ভাব বা বমি

হার্ট অ্যাটাকের সময় অনেকের বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি বা বমি হতে পারে। এই লক্ষণকে অনেক সময় মানুষ গ্যাস, বদহজম বা খাবারের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন।

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকব্যথার পাশাপাশি বা কখনো কম স্পষ্ট বুকের উপসর্গের সঙ্গে বমি বমি ভাব, বমি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট বা পিঠ-কাঁধের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

তাই হঠাৎ অস্বাভাবিক শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে শুধু “গ্যাস হয়েছে” ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়।

৬. মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি

হঠাৎ মাথা হালকা লাগা, দুর্বল হয়ে পড়া, ভারসাম্য হারানোর মতো অনুভূতি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়াও হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে দেখা দিতে পারে।

যদি এর সঙ্গে বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, ঘাম বা দ্রুত/অনিয়মিত হৃদস্পন্দন থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

৭. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা

সারাদিন কাজ করার পর ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা এমন ক্লান্তি অনুভূত হওয়া যে স্বাভাবিক কাজ করতেও কষ্ট হচ্ছে—এটিও কখনো কখনো হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা হার্ট অ্যাটাকের কম পরিচিত লক্ষণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

৮. হৃদস্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত মনে হওয়া

হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা, হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত বা অনিয়মিত মনে হওয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে যদি এর সঙ্গে বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

এখানে নিজে থেকে কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে নারীদেরও বুকের ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে, তবে তাদের মধ্যে কিছু অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত উপসর্গও দেখা যেতে পারে। যেমন—অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, বমি, পিঠ বা কাঁধে অস্বস্তি এবং চোয়ালে ব্যথা।

এ কারণে শুধু “বুকের তীব্র ব্যথা হচ্ছে না, তাই হার্ট অ্যাটাক নয়”—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

“গ্যাস” ভেবে ভুল করবেন না

বুক জ্বালা, পেটের অস্বস্তি বা বদহজমের মতো অনুভূতি অনেক সাধারণ সমস্যার কারণেও হতে পারে। কিন্তু একই ধরনের অনুভূতি কখনো কখনো হৃদ্‌যন্ত্রের জরুরি সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

বিশেষ করে অস্বস্তির সঙ্গে যদি বুকের চাপ, শ্বাসকষ্ট, ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব অথবা হাত, পিঠ, ঘাড় ও চোয়ালে ব্যথা থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কখনো কখনো হালকা বা অস্পষ্টও হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া। হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে জরুরি সেবায় ফোন করা উচিত। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।

সম্ভব হলে রোগীকে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া ভালো। অ্যাম্বুলেন্সের প্রশিক্ষিত কর্মীরা পথে রোগীর মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা শুরু করতে পারেন এবং হাসপাতালকে আগেই প্রস্তুত করতে পারেন।

এমন পরিস্থিতিতে করণীয়

  • কাজ বন্ধ করে নিরাপদ অবস্থায় বসুন বা বিশ্রাম নিন।
  • জরুরি সেবায় ফোন করুন।
  • একা থাকলে কাছের কাউকে দ্রুত জানান।
  • নিজের গাড়ি নিজে চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নতুন কোনো ওষুধ নিজে থেকে গ্রহণ করবেন না।
  • যদি রোগী অচেতন হয়ে যান এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নেন, আশপাশের কেউ জরুরি সেবা ডেকে Hands-Only CPR শুরু করতে পারেন, যদি তিনি তা জানেন।

অ্যাসপিরিন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা: কিছু পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসাকর্মী বা চিকিৎসক অ্যাসপিরিন গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু সবার জন্য এটি নিরাপদ নয়—বিশেষ করে অ্যালার্জি বা রক্তপাতের ঝুঁকি থাকলে। তাই নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে জরুরি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করা নিরাপদ।

হাসপাতালে কী ধরনের চিকিৎসা হতে পারে?

হার্ট অ্যাটাক নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসক রোগীর লক্ষণ, শারীরিক অবস্থা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করেন। সাধারণত ECG/EKG এবং রক্তের পরীক্ষা, বিশেষ করে হৃদপেশির ক্ষতির চিহ্ন শনাক্ত করার জন্য ট্রোপোনিন পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ইকোকার্ডিওগ্রাম, করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রামসহ অন্যান্য পরীক্ষাও করা হতে পারে।

চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ যত দ্রুত সম্ভব পুনরুদ্ধার করা এবং আরও ক্ষতি ঠেকানো। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট, অথবা কিছু ক্ষেত্রে বাইপাস সার্জারির মতো চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা ঘরোয়া কোনো পদ্ধতিতে করার বিষয় নয়। এটি হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মতো জরুরি অবস্থা।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে কী করবেন?

সব হার্ট অ্যাটাক শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রার বেশ কিছু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন

১. ধূমপান ও তামাক এড়িয়ে চলুন
তামাক হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান ছেড়ে দেওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

২. নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন
আপনার বয়স ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। তবে আগে থেকে হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো।

৩. খাবারের ব্যাপারে সচেতন হন
অতিরিক্ত লবণ, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি কমিয়ে শাকসবজি, ফল, সম্পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর প্রোটিনসহ ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের দিকে নজর দেওয়া ভালো।

৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন
রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ধমনিতে প্লাক জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

৬. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করুন
ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা ও জীবনযাপনের মাধ্যমে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

৭. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করুন
অতিরিক্ত ওজন হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে এবং অন্যান্য ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

৮. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
স্বাস্থ্যকর ঘুমও সামগ্রিক হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অংশ। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো।

American Heart Association-এর বর্তমান প্রতিরোধ কাঠামোতে স্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, তামাক পরিহার, স্বাস্থ্যকর ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

“সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক” কী?

সব হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ তীব্র হয় না। কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ এত মৃদু বা অস্বাভাবিক হতে পারে যে ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না তিনি হার্ট অ্যাটাকের মধ্য দিয়ে গেছেন। এগুলোকে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক বলা হয়। অস্বাভাবিক ক্লান্তি, হালকা বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, বদহজমের মতো অনুভূতি, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা চোয়াল-পিঠ-হাতের অস্বস্তি এর সঙ্গে থাকতে পারে।

এ কারণে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ বারবার হলে বা একবার হলেও সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

শেষ কথা

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো লক্ষণকে ছোট করে দেখা। “একটু পর ঠিক হয়ে যাবে”, “গ্যাস হয়েছে”, “অতিরিক্ত কাজের কারণে ক্লান্ত লাগছে”—এই ধরনের ধারণা কখনো কখনো মূল্যবান সময় নষ্ট করতে পারে।

মনে রাখুন, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একই নয়। বুকের চাপ বা ব্যথা, হাত-পিঠ-ঘাড়-চোয়ালে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা—এসবের যেকোনোটি পরিস্থিতি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সবচেয়ে জরুরি কথা হলো—হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্ত কখনো কখনো হৃদপিণ্ডের ক্ষতির পরিমাণে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

এই লেখাটি সচেতনতার জন্য। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে অনলাইনে পড়ে নিজে রোগ নির্ণয় না করে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়াই নিরাপদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম