শিশু হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হলো, খেতে চাইছে না, মুখের ভেতরে ছোট ছোট ঘা দেখা দিয়েছে। এর কিছুদিন পর আবার হাত-পায়ের তালুতে লালচে দানা বা ফোসকার মতো কিছু দেখা গেল। অনেক বাবা-মা এমন পরিস্থিতিতে চিন্তায় পড়ে যান—এটা কি সাধারণ ভাইরাসজনিত অসুস্থতা, নাকি অন্য কোনো রোগ?
এ ধরনের লক্ষণের একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে Hand, Foot and Mouth Disease বা HFMD। এটি শিশুদের মধ্যে বেশ পরিচিত একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। সাধারণত রোগটি গুরুতর হয় না এবং অধিকাংশ শিশু ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়। তবে শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হচ্ছে কি না এবং অস্বাভাবিক বা গুরুতর কোনো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে কি না—সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হয়।
HFMD আসলে কী?
Hand, Foot and Mouth Disease-এর বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় হাত, পা ও মুখের রোগ। নামটি শুনে অনেকে পশুর Foot-and-Mouth Disease-এর সঙ্গে এটি গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু মানুষের HFMD এবং গবাদিপশুর Foot-and-Mouth Disease একেবারেই আলাদা রোগ। HFMD সাধারণত বিভিন্ন ধরনের enterovirus-এর কারণে হয়ে থাকে এবং এটি একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো—জ্বর, মুখের ভেতরে ব্যথাযুক্ত ঘা এবং হাত-পায়ের ত্বকে র্যাশ বা ফোসকা। তবে প্রত্যেক শিশুর ক্ষেত্রে সব লক্ষণ একইভাবে দেখা যাবে এমন নয়। কারও জ্বর বেশি হতে পারে, কারও মুখের ঘা বেশি কষ্ট দিতে পারে, আবার কারও ত্বকের র্যাশই প্রথমে চোখে পড়তে পারে।
শিশুদের HFMD-এর প্রথম লক্ষণগুলো কী?
অনেক সময় HFMD শুরু হয় সাধারণ ভাইরাল জ্বর বা সর্দি-গলা ব্যথার মতো লক্ষণ দিয়ে। ফলে প্রথম দিনেই রোগটি HFMD কি না বোঝা কঠিন হতে পারে।
CDC-এর তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের কয়েক দিন পর শিশুর মধ্যে জ্বর ও ফ্লুর মতো কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। NHS-ও গলা ব্যথা, জ্বর এবং খেতে না চাওয়াকে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুর মধ্যে দেখা যেতে পারে—
- জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া
- গলা ব্যথা
- খাবারের প্রতি অনীহা
- দুর্বল বা অস্বস্তি লাগা
- স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বিরক্ত বা কান্নাকাটি করা
- কিছু ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো অসুস্থতার অনুভূতি
বিশেষ করে ছোট শিশু নিজের কষ্ট মুখে বলে বোঝাতে পারে না। তাই বাবা-মাকে তার আচরণের পরিবর্তনের দিকে খেয়াল করতে হয়।
১. জ্বর—HFMD-এর অন্যতম সাধারণ লক্ষণ
শিশুর HFMD হলে শুরুতে জ্বর দেখা দিতে পারে। অনেক সময় জ্বরের সঙ্গে শিশুর স্বাভাবিক খেলাধুলা কমে যায় এবং সে নিস্তেজ বা অস্বস্তিবোধ করতে পারে। জ্বরের সঙ্গে গলা ব্যথা বা খেতে না চাওয়াও থাকতে পারে।
তবে শুধু জ্বর দেখেই HFMD বলা যায় না। কারণ শিশুদের বিভিন্ন ভাইরাসজনিত সংক্রমণেও জ্বর হতে পারে। পরবর্তী সময়ে মুখে ঘা এবং হাত-পায়ে বিশেষ ধরনের র্যাশ দেখা দিলে HFMD-এর সম্ভাবনা বেশি মনে হতে পারে।
২. মুখের ভেতরে ব্যথাযুক্ত ঘা
HFMD-এর সবচেয়ে বিরক্তিকর লক্ষণগুলোর একটি হলো মুখের ভেতরে ঘা বা ছোট ছোট ফোসকা তৈরি হওয়া।
এসব ঘা সাধারণত জিহ্বা ও মুখের ভেতরের অংশে দেখা দিতে পারে। শুরুতে ছোট লাল দাগের মতো হতে পারে, পরে তা ফোসকা বা ব্যথাযুক্ত ঘায়ে পরিণত হতে পারে। মুখের ঘা থাকার কারণে শিশুর জন্য খাবার বা পানি গিলে খাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়।
এখানেই বাবা-মায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল করা দরকার। শিশু যদি হঠাৎ খাবার প্রত্যাখ্যান করে, পানি খেতে না চায়, অতিরিক্ত লালা ঝরায় বা শুধু ঠান্ডা তরল খাবার খেতে চায়—তাহলে মুখের ভেতরে ঘা হয়েছে কি না দেখে নিতে পারেন।
মুখের ঘার কারণে শিশু অনেক সময়—
- খাবার মুখে নিয়ে আবার ফেলে দিতে পারে
- পানি খেতে চাইবে না
- খাওয়ার সময় কান্না করতে পারে
- অতিরিক্ত লালা ফেলতে পারে
- শুধু ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা তরল চাইতে পারে
মুখের ঘা শুধু শিশুকে অস্বস্তিতে ফেলে না, পর্যাপ্ত তরল না খেলে পানিশূন্যতার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
৩. হাতের তালুতে লাল দাগ বা ফোসকা
HFMD-এর নামের সঙ্গে “Hand” থাকার একটি বড় কারণ হলো হাতের ত্বকে র্যাশ দেখা দেওয়া।
শিশুর হাতের তালু বা আঙুলের আশপাশে ছোট লাল বা গোলাপি দাগ দেখা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো সামান্য উঁচু হয়ে ফোসকার মতো হতে পারে। ত্বকের রঙের ওপর নির্ভর করে দাগের চেহারা ভিন্ন দেখাতেও পারে।
একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—HFMD-এর র্যাশ সব শিশুর ক্ষেত্রে একই রকম হয় না। কারও ক্ষেত্রে কয়েকটি দাগ দেখা যেতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি দাগ হতে পারে।
৪. পায়ের তালুতে র্যাশ
হাতের পাশাপাশি পায়ের তালুতেও র্যাশ বা ফোসকা দেখা দেওয়া HFMD-এর পরিচিত লক্ষণ।
পায়ের পাতায় দাগ হওয়ায় হাঁটার সময় শিশুর অস্বস্তি হতে পারে। ছোট শিশু হাঁটতে না চাইলে বা পা মাটিতে রাখতে বিরক্তি প্রকাশ করলে পায়ের তালু ও আঙুলের চারপাশ ভালোভাবে দেখে নিতে পারেন।
সাধারণত র্যাশ হাত ও পায়ের তালুতে বেশি পরিচিত হলেও শরীরের অন্য জায়গাতেও দেখা দিতে পারে। যেমন—পা, হাত, নিতম্ব বা কুঁচকির আশপাশে দাগ হতে পারে।
৫. নিতম্ব, পা বা শরীরের অন্য জায়গায় দানা
শুধু হাত-পা-মুখেই র্যাশ থাকবে—এমনটা সবসময় নয়। কিছু শিশুর নিতম্ব, পা, হাত কিংবা কুঁচকির আশপাশেও র্যাশ দেখা দিতে পারে।
NHS-এর তথ্য অনুযায়ী, র্যাশ কখনও গোলাপি বা লালচে দাগের মতো এবং কখনও ফোসকার মতো দেখা দিতে পারে। শিশুর ত্বকের স্বাভাবিক রঙের ওপরও র্যাশের দৃশ্যমানতা পরিবর্তিত হতে পারে।
তাই শিশুর শরীরে নতুন কোনো র্যাশ দেখা দিলে শুধু একটি জায়গা না দেখে হাতের তালু, পায়ের তালু, মুখ ও শরীরের অন্যান্য অংশও খেয়াল করা ভালো।
৬. গলা ব্যথা ও খেতে না চাওয়া
HFMD-এর শুরুর দিকে শিশুর গলা ব্যথা হতে পারে। এরপর মুখের ঘা তৈরি হলে খাবার খাওয়া আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
বাবা-মা অনেক সময় ভাবেন, “শিশু হঠাৎ খাওয়া বন্ধ করল কেন?” এর পেছনে মুখের ঘা বা গলা ব্যথা থাকতে পারে।
শিশু যদি খাবার না খেতে চায় কিন্তু তরল গ্রহণ মোটামুটি ঠিক থাকে, তখন জোর করে খাবার খাওয়ানোর বদলে সহজে খেতে পারে এমন নরম খাবার এবং পর্যাপ্ত তরলের দিকে গুরুত্ব দেওয়া যায়। NHS ঠান্ডা তরল ও নরম খাবার দিয়ে মুখের অস্বস্তি কমানোর পরামর্শ দেয়।
৭. অতিরিক্ত লালা পড়তে পারে
মুখের ভেতরের ঘা ব্যথাযুক্ত হলে ছোট শিশু গিলতে অস্বস্তি বোধ করতে পারে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লালা ঝরতে দেখা যেতে পারে।
বিশেষ করে যে শিশু এখনও নিজের সমস্যাটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না, তার ক্ষেত্রে আচরণ ও খাওয়ার ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে অতিরিক্ত লালা পড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। CDC মুখের ঘার কারণে গিলতে ব্যথা হলে অতিরিক্ত লালা পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে।
৮. শিশুর মেজাজ ও আচরণ বদলে যেতে পারে
অসুস্থ হলে শিশু সাধারণত বিরক্ত বা কান্নাকাটি করতে পারে। HFMD-এর ক্ষেত্রে মুখ ও গলার ব্যথার কারণে এই অস্বস্তি আরও বেশি হতে পারে।
যে শিশু সাধারণত খেলাধুলা করে, সে হয়তো হঠাৎ কোলে থাকতে চাইবে। খাবার দেখলে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। ঘুমের সময়ও অস্বস্তি প্রকাশ করতে পারে।
তাই শুধু ত্বকের দাগ নয়, শিশুর সামগ্রিক আচরণও লক্ষ করুন।
HFMD-এর র্যাশ দেখতে কেমন?
HFMD-এর র্যাশ সাধারণত ছোট লাল বা গোলাপি দাগের মতো হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো সামান্য উঁচু হয় এবং পরে ফোসকার মতো দেখা যায়। অনেক সময় হাতের তালু ও পায়ের তলায় এই দাগগুলো বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়।
তবে প্রতিটি র্যাশ HFMD নয়। শিশুদের বিভিন্ন ভাইরাস, অ্যালার্জি কিংবা অন্যান্য সংক্রমণেও ত্বকে দাগ হতে পারে। তাই শুধু ছবি দেখে বা অনলাইনে পড়ে নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়।
HFMD কি চুলকায়?
HFMD-এর র্যাশ সাধারণত খুব বেশি চুলকানিযুক্ত হয় না—CDC বলছে হাত-পায়ের র্যাশ সাধারণত চুলকায় না। তবে শিশুভেদে অস্বস্তির ধরন ভিন্ন হতে পারে।
ফোসকা হলে সেগুলো চুলকানো বা ফাটানোর চেষ্টা না করাই ভালো। ফোসকার তরলে ভাইরাস থাকতে পারে, তাই আক্রান্ত জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং শিশুকে বারবার স্পর্শ না করতে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ।
HFMD কীভাবে ছড়ায়?
HFMD অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি-হাঁচির নিঃসরণ, লালা, নাকের নিঃসরণ, ফোসকার তরল এবং মলের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত শিশুর খেলনা বা অন্যান্য দূষিত জিনিস স্পর্শ করেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
এ কারণেই একটি শিশুর HFMD হলে পরিবারের অন্য শিশুদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষ করে ডায়াপার পরিবর্তনের পর হাত ভালোভাবে না ধোয়া, একই কাপ-প্লেট বা চামচ ব্যবহার করা এবং আক্রান্ত শিশুর খেলনা বা জিনিসপত্র ভাগাভাগি করার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
বাবা-মায়ের কী কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?
শিশুর HFMD হয়েছে বা সন্দেহ হচ্ছে—এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিচ্ছন্নতা এবং শিশুর তরল গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু সাধারণ সতর্কতা হলো—
- সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালোভাবে হাত ধোয়া।
- শিশুর ডায়াপার পরিবর্তনের পর অবশ্যই হাত পরিষ্কার করা।
- শিশুর ব্যবহৃত কাপ, চামচ, তোয়ালে ইত্যাদি অন্যদের সঙ্গে ভাগ না করা।
- খেলনা ও বেশি স্পর্শ করা হয় এমন পৃষ্ঠ নিয়মিত পরিষ্কার করা।
- শিশুর মুখ বা ফোসকা অপ্রয়োজনে স্পর্শ না করা।
- ফোসকা পরিষ্কার রাখা।
- অসুস্থ অবস্থায় খুব কাছাকাছি শারীরিক সংস্পর্শ কমানো।
HFMD হলে শিশুকে কী খাওয়াবেন?
মুখের ঘা থাকার কারণে শিশুর খাবার খেতে কষ্ট হতে পারে। এ সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করছে কি না।
ঠান্ডা পানি বা অন্যান্য উপযুক্ত ঠান্ডা তরল মুখের অস্বস্তি কিছুটা কমাতে পারে। নরম খাবারও শিশুর জন্য তুলনামূলক সহজ হতে পারে। NHS গরম, ঝাল ও অতিরিক্ত নোনতা খাবার এড়িয়ে চলার এবং নরম খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। অ্যাসিডিক পানীয় যেমন কিছু ফলের জুস মুখের ঘায় জ্বালা বাড়াতে পারে।
শিশু খাবার কম খেলেও যদি পর্যাপ্ত তরল পান করে এবং অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ না থাকে, তাহলে কিছুটা সময় পর্যবেক্ষণ করা যায়। তবে ছোট শিশুর ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কখন বুঝবেন শিশুর পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে?
HFMD-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো শিশুর পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ। মুখের ঘা এতটাই ব্যথা করতে পারে যে শিশু পানি খেতেও অনীহা দেখাতে পারে। এতে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষ করে খেয়াল করুন—
- শিশু স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম পানি পান করছে কি না।
- প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাচ্ছে কি না।
- দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হলে।
- শিশু খুব দুর্বল বা অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়ছে কি না।
- মুখ শুকনো মনে হচ্ছে কি না।
NHS-ও HFMD আক্রান্ত শিশুর স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব করাকে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
HFMD সাধারণত মৃদু রোগ এবং অধিকাংশ শিশু ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে সব শিশুর ক্ষেত্রে একই অভিজ্ঞতা নাও হতে পারে।
নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত—
- শিশু পর্যাপ্ত পানি বা তরল পান করতে না পারলে।
- পানিশূন্যতার আশঙ্কা হলে।
- জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে।
- শিশুর বয়স খুব কম হলে, বিশেষ করে ৬ মাসের কম হলে।
- লক্ষণ গুরুতর মনে হলে।
- ১০ দিনের পরও লক্ষণ ভালো না হলে।
- শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে।
এছাড়া শিশু যদি খুব অসুস্থ দেখায়, অস্বাভাবিক আচরণ করে বা বাবা-মায়ের মনে হয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়, তাহলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
HFMD-এর জটিলতা কি হতে পারে?
বেশিরভাগ HFMD আক্রান্ত শিশু কোনো বড় জটিলতা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যায়। তবে বিরল ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ উদ্বেগের বিষয় হলো পানিশূন্যতা। কারণ মুখের ব্যথার কারণে শিশু পর্যাপ্ত তরল পান করতে পারে না।
খুব বিরল ক্ষেত্রে ভাইরাল মেনিনজাইটিস বা এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। CDC এসব জটিলতাকে বিরল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তাই অযথা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, আবার গুরুতর লক্ষণকে অবহেলাও করা উচিত নয়।
HFMD হলে অ্যান্টিবায়োটিক কি প্রয়োজন?
HFMD ভাইরাসজনিত রোগ। তাই সাধারণভাবে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক এই রোগের মূল কারণ দূর করে না। NHS-ও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে HFMD সারানোর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।
শিশুর জ্বর বা ব্যথা কমানোর জন্য কী ওষুধ দেওয়া যাবে, তা বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। শিশুদের ক্ষেত্রে নিজে থেকে ওষুধের ডোজ নির্ধারণ না করে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুকে অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয়।
HFMD হলে কত দিনে ভালো হয়?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে HFMD-এর লক্ষণ কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে এবং প্রায় ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে শিশু সুস্থ হয়ে যায়।
তবে সুস্থ হয়ে গেলেও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস বজায় রাখা দরকার। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি অসুস্থতার পরও কিছু সময় ভাইরাস ছড়াতে পারে। CDC বলছে, লক্ষণ চলে যাওয়ার পরও কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর্যন্ত ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকতে পারে।
শেষ কথা
শিশুর জ্বর, মুখে ব্যথাযুক্ত ঘা এবং হাত-পায়ের তালুতে লাল দাগ বা ফোসকা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে দেখা গেলে HFMD-এর কথা মনে রাখা যায়। তবে শুধু লক্ষণ দেখে নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়। কারণ শিশুদের অনেক ধরনের অসুস্থতায় জ্বর বা র্যাশ হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুকে পর্যাপ্ত তরল দেওয়া, মুখের ব্যথার কারণে সে কতটা খেতে ও পান করতে পারছে তা নজরে রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
মনে রাখবেন, HFMD সাধারণত মৃদু ও স্বল্পমেয়াদি একটি ভাইরাসজনিত অসুস্থতা। তাই আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে শিশুর লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ সতর্কতা: এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য দেওয়ার জন্য। আপনার শিশুর নির্দিষ্ট লক্ষণ, বয়স, জ্বরের মাত্রা বা শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
