স্ক্যাবিস কেন হয়? স্ক্যাবিস থেকে বাঁচার উপায় কী?

ত্বকে হঠাৎ প্রচণ্ড চুলকানি, বিশেষ করে রাতে চুলকানি বেড়ে যাওয়া, ছোট ছোট লাল দানা বা ফুসকুড়ি—এসব দেখে অনেকেই প্রথমে অ্যালার্জি বা সাধারণ কোনো চর্মরোগ মনে করেন। কিন্তু কখনো কখনো এর পেছনে থাকতে পারে স্ক্যাবিস (Scabies)। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক চর্মরোগ, যা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্ক্যাবিস শুধু অপরিচ্ছন্ন মানুষের হয়—এমন ধারণা ঠিক নয়। যে কেউ স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘসময় ত্বকের সংস্পর্শ, একই বিছানা ব্যবহার, একই কাপড় বা কিছু ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগি করার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ক্যাবিস হলে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করলেই অনেক সময় সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে না। একই পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণ থাকতে পারে, এমনকি তাদের উপসর্গ শুরু নাও হতে পারে। তাই রোগটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

স্ক্যাবিস কী?

স্ক্যাবিস হলো একটি পরজীবীজনিত চর্মরোগ। এর জন্য দায়ী একটি অতি ক্ষুদ্র মাইট বা পরজীবী, যার বৈজ্ঞানিক নাম Sarcoptes scabiei var. hominis।

এই মাইট মানুষের ত্বকের উপরের স্তরে প্রবেশ করে সেখানে চলাচল ও ডিম পাড়তে পারে। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এই মাইট, এর ডিম ও মলজাতীয় উপাদানের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর ফলে তীব্র চুলকানি ও ত্বকে বিভিন্ন ধরনের দানা দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় মাইটের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও চুলকানি অনেক বেশি হয়। বিশেষ করে রাতে শরীরের উষ্ণতায় চুলকানি বেড়ে যেতে পারে।

স্ক্যাবিস কেন হয়?

স্ক্যাবিস হওয়ার প্রধান কারণ হলো স্ক্যাবিস মাইটের সংক্রমণ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘসময় ত্বকের সংস্পর্শ হলে মাইট একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—

  • আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানো
  • দীর্ঘসময় ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শে থাকা
  • একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ
  • একই কাপড়, তোয়ালে বা বিছানার চাদর ব্যবহার করা
  • এমন পরিবেশে দীর্ঘসময় থাকা যেখানে অনেক মানুষের ঘনিষ্ঠ বসবাস

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুধু একবার কারও পাশে বসা বা হাত মেলালেই সাধারণত স্ক্যাবিস ছড়িয়ে পড়ে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ঘনিষ্ঠ ত্বক-সংস্পর্শে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।

স্ক্যাবিস কি অপরিষ্কার থাকার কারণে হয়?

এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা।

স্ক্যাবিস হওয়া মানেই একজন ব্যক্তি অপরিষ্কার—এমন নয়। নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার কাপড় পরা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেও কেউ স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হতে পারেন।

তবে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালে ইত্যাদি সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে পুনরায় সংক্রমণ বা পরিবারের অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

তাই স্ক্যাবিস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা মানুষদের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্ক্যাবিসের প্রধান লক্ষণগুলো কী?

স্ক্যাবিসের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো তীব্র চুলকানি। অনেকের ক্ষেত্রে রাতে চুলকানি তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়।

এ ছাড়া দেখা দিতে পারে—

  • ছোট ছোট লাল বা গোলাপি দানা
  • ত্বকে ছোট ফুসকুড়ি
  • অতিরিক্ত চুলকানোর কারণে ক্ষত বা আঁচড়
  • ত্বক মোটা বা খসখসে হয়ে যাওয়া
  • আঙুলের ফাঁকে সরু দাগ বা সুড়ঙ্গের মতো চিহ্ন
  • কবজি, কনুই, বগল বা কোমরের আশপাশে দানা
  • যৌনাঙ্গ বা নিতম্বের আশপাশে চুলকানি ও দানা
  • শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হওয়া

চুলকাতে চুলকাতে ত্বকে ক্ষত তৈরি হলে সেখানে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণও হতে পারে। ফলে পুঁজ, ব্যথা, অতিরিক্ত লালভাব বা অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শরীরের কোন জায়গায় স্ক্যাবিস বেশি হয়?

স্ক্যাবিস শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে—

  • আঙুলের ফাঁকে
  • কবজিতে
  • কনুইয়ের ভাঁজে
  • বগলে
  • কোমরের আশপাশে
  • নাভির আশপাশে
  • নিতম্বে
  • যৌনাঙ্গের আশপাশে
  • স্তনের আশপাশে

ছোট শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরের আরও বিস্তৃত অংশ আক্রান্ত হতে পারে। শিশুদের হাতের তালু, পায়ের তালু বা মাথার ত্বকেও স্ক্যাবিস দেখা যেতে পারে।

রাতে চুলকানি কেন বেশি হয়?

স্ক্যাবিসের ক্ষেত্রে রাতে চুলকানি বেড়ে যাওয়ার কথা অনেকেই বলেন। এটি রোগটির একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য। উষ্ণ পরিবেশে এবং বিশ্রামের সময় চুলকানি বেশি অনুভূত হতে পারে।

তবে শুধু রাতে চুলকানি হচ্ছে বলেই নিশ্চিতভাবে স্ক্যাবিস বলা যায় না। একজিমা, অ্যালার্জি, শুষ্ক ত্বকসহ অন্যান্য সমস্যাতেও চুলকানি হতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

স্ক্যাবিস কি ছোঁয়াচে?

হ্যাঁ। স্ক্যাবিস অত্যন্ত সংক্রামক হতে পারে।

একজন আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘসময় ঘনিষ্ঠ ত্বক-সংস্পর্শ থাকলে অন্য ব্যক্তির শরীরেও মাইট চলে যেতে পারে। বিশেষ করে একই পরিবারের সদস্যরা একই বিছানা ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই পরিবারের একজনের স্ক্যাবিস ধরা পড়লে শুধু তার চিকিৎসা নয়, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের বিষয়েও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্ক্যাবিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্ক্যাবিসনাশক ওষুধ বা ক্রিম/লোশন ব্যবহার করা হয়। কোন ওষুধ কতবার এবং শরীরের কোন কোন অংশে ব্যবহার করতে হবে, তা বয়স, গর্ভাবস্থা, রোগের মাত্রা এবং ব্যক্তির অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে।

তাই নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো চুলকানির ক্রিম বা স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি—

  • আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ত্বক-সংস্পর্শ কমান
  • ব্যবহৃত পোশাক পরিষ্কার করুন
  • বিছানার চাদর ও বালিশের কভার পরিষ্কার করুন
  • তোয়ালে ও ব্যক্তিগত সামগ্রী আলাদা রাখুন
  • পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলুন
  • চিকিৎসা যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই সম্পূর্ণ করুন

কাপড় ও বিছানা পরিষ্কার করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

স্ক্যাবিসের মাইট মানুষের শরীরের বাইরে সীমিত সময় বেঁচে থাকতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সাম্প্রতিক ব্যবহৃত কাপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালে ইত্যাদির ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব কাপড় ও কাপড়জাতীয় জিনিস নিয়মিত ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো সম্ভব হলে গরম পানিতে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। যেসব জিনিস ধোয়া সম্ভব নয়, সেগুলো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বারবার সংক্রমণ যেন না হয়।

স্ক্যাবিস থেকে বাঁচার উপায় কী?

স্ক্যাবিস প্রতিরোধের জন্য কয়েকটি অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১. আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন

পরিবারের কেউ স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠ ত্বক-সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা ভালো।

২. ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগি করবেন না

তোয়ালে, পোশাক, বিছানার চাদরসহ ব্যক্তিগত জিনিস অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করাই ভালো।

৩. কাপড় ও বিছানাপত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন

আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড় ও বিছানাপত্র যথাযথভাবে পরিষ্কার করা উচিত।

৪. পরিবারের সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখুন

একজনের স্ক্যাবিস হলে পরিবারের অন্য কারও চুলকানি, বিশেষ করে রাতের চুলকানি বা নতুন দানা দেখা দিচ্ছে কি না খেয়াল করুন।

৫. রোগ লুকিয়ে রাখবেন না

অনেকে সামাজিক লজ্জার কারণে স্ক্যাবিসের কথা পরিবারের সদস্যদের বলেন না। এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্ক্যাবিস একটি চিকিৎসাযোগ্য সংক্রামক চর্মরোগ। তাই লজ্জা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় সাধারণ ভুলগুলো কী?

স্ক্যাবিসের ক্ষেত্রে কিছু ভুলের কারণে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

প্রথম ভুল: শুধু চুলকানি কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা।
চুলকানি কমলেও মূল মাইটের চিকিৎসা না হলে সমস্যা থেকে যেতে পারে।

দ্বিতীয় ভুল: একজনের চিকিৎসা করা কিন্তু ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি উপেক্ষা করা।
এর ফলে সংক্রমণ আবার ফিরে আসতে পারে।

তৃতীয় ভুল: নিজের ইচ্ছায় শক্তিশালী স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করা।
এতে সাময়িকভাবে উপসর্গ কম মনে হলেও রোগের প্রকৃতি পরিবর্তিত বা আড়াল হতে পারে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

চতুর্থ ভুল: চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া।
চিকিৎসক যে সময় ও নিয়ম অনুসরণ করতে বলেছেন, তা যথাযথভাবে মেনে চলা জরুরি।

চিকিৎসার পরও চুলকানি থাকলে কি স্ক্যাবিস থেকে গেছে?

সবসময় নয়।

স্ক্যাবিসের সফল চিকিৎসার পরও কিছু মানুষের চুলকানি কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকতে পারে। কারণ মাইট মারা গেলেও শরীরের অ্যালার্জিক বা প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া কিছু সময় চলতে পারে।

তবে চিকিৎসার পর নতুন নতুন দানা বা সুড়ঙ্গের মতো দাগ তৈরি হতে থাকলে, পরিবারের অন্য সদস্যদের নতুন করে চুলকানি শুরু হলে, অথবা উপসর্গ ক্রমেই বাড়লে আবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো—

  • চুলকানি খুব তীব্র হলে
  • শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দ্রুত দানা ছড়িয়ে পড়লে
  • ত্বকে পুঁজ বা ক্ষত তৈরি হলে
  • শিশু আক্রান্ত হলে
  • বয়স্ক ব্যক্তি আক্রান্ত হলে
  • গর্ভবতী হলে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি আক্রান্ত হলে
  • পরিবারের একাধিক সদস্য একই ধরনের চুলকানিতে আক্রান্ত হলে
  • চিকিৎসার পরও নতুন দানা তৈরি হতে থাকলে

বিশেষ করে খুব ছোট শিশু বা দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে নিজের মতো করে ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বেশি নিরাপদ।

স্ক্যাবিস নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

স্ক্যাবিস নিয়ে সমাজে বেশ কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। যেমন—

“স্ক্যাবিস শুধু গরিব বা অপরিষ্কার মানুষের হয়।”
ভুল। যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।

“প্রতিদিন গোসল করলে স্ক্যাবিস হবে না।”
শুধু গোসল করলেই স্ক্যাবিস প্রতিরোধ করা যায় না।

“চুলকানি কমে গেলেই রোগ ভালো হয়ে গেছে।”
সবসময় এমন নয়। চিকিৎসার পরও কিছু সময় চুলকানি থাকতে পারে, আবার নতুন সংক্রমণও হতে পারে।

“শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করলেই হবে।”
ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মূল্যায়ন বা একই সময়ে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

শেষ কথা

স্ক্যাবিস দেখতে সাধারণ চুলকানি বা অ্যালার্জির মতো মনে হলেও এটি একটি সংক্রামক চর্মরোগ। এর প্রধান কারণ স্ক্যাবিস মাইটের সংক্রমণ। দীর্ঘসময় ঘনিষ্ঠ ত্বক-সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি সহজেই একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হলে স্ক্যাবিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজে থেকে শক্তিশালী ওষুধ বা স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। একই সঙ্গে ব্যবহৃত পোশাক, বিছানার চাদর ও তোয়ালে পরিষ্কার রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়া উচিত।

মনে রাখবেন, স্ক্যাবিস হওয়া লজ্জার কোনো বিষয় নয়। এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। লজ্জা বা অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই আপনাকে এবং আপনার পরিবারের অন্য সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে পারে।

আপনার বা পরিবারের কারও যদি রাতে তীব্র চুলকানি এবং ছোট ছোট দানা দেখা দেয়, তাহলে সেটিকে সাধারণ অ্যালার্জি ভেবে দীর্ঘদিন না রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম