গরমে কোন অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলা উচিত?

গরমকাল এলেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। তীব্র রোদ, অতিরিক্ত ঘাম, শরীরে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি—সব মিলিয়ে এই সময়টাতে শরীরকে একটু বেশি যত্ন নিতে হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা দুটোই বেশি থাকায় বাইরে বের হওয়া থেকে শুরু করে খাবার-দাবার ও ঘুম—প্রায় সবকিছুর ওপরই গরমের প্রভাব পড়ে।

অনেকেই মনে করেন, গরমে শুধু বেশি পানি খেলেই শরীর ভালো থাকবে। পানি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুধু পানি পান করলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। বরং আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস অজান্তেই গরমের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কখনো অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয়, কখনো রোদে দীর্ঘ সময় থাকা, আবার কখনো খালি পেটে বাইরে বের হওয়া—এসব ছোটখাটো বিষয় থেকেই শরীরে দেখা দিতে পারে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা কিংবা তাপজনিত অসুস্থতা।

তাই গরমের দিনে কোন অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলা উচিত, তা জানা আমাদের সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

১. অতিরিক্ত সময় সরাসরি রোদে থাকা এড়িয়ে চলুন

গরমের সময় দিনের মাঝামাঝি সূর্যের তাপ অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে দুপুর থেকে বিকেলের আগ পর্যন্ত সরাসরি রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শরীর দ্রুত অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে।

প্রয়োজন ছাড়া তীব্র রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটাহাঁটি করা উচিত নয়। বাইরে কাজ থাকলে সম্ভব হলে তুলনামূলক ঠান্ডা সময় বেছে নেওয়া ভালো।

যাদের বাইরে কাজ করতেই হয়, তারা—

  • ছাতা বা টুপি ব্যবহার করতে পারেন।
  • হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে পারেন।
  • মাঝেমধ্যে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নিতে পারেন।
  • পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে পারেন।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।

২. পানি না খেয়ে দীর্ঘ সময় কাটানো

অনেক মানুষ কাজের ব্যস্ততায় পানি খাওয়ার কথা ভুলে যান। আবার কেউ কেউ তৃষ্ণা না লাগা পর্যন্ত পানি পান করেন না। গরমের সময় এটি ভালো অভ্যাস নয়।

শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বেরিয়ে যায়। ফলে গরমে অন্য সময়ের তুলনায় তরলের প্রয়োজন বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত তরল না খেলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়।

পানিশূন্যতার কিছু সাধারণ লক্ষণ হতে পারে—

  • অতিরিক্ত তৃষ্ণা
  • মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া
  • দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা
  • মাথা ঘোরা
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা গাঢ় রঙের হওয়া

তাই তৃষ্ণার অপেক্ষা না করে দিনের মধ্যে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস করুন। তবে যাদের কোনো বিশেষ রোগের কারণে চিকিৎসক তরল গ্রহণ সীমিত করতে বলেছেন, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

৩. অতিরিক্ত চা-কফি পান করা

গরমে অনেকে ক্লান্তি কাটানোর জন্য বারবার চা বা কফি পান করেন। এক কাপের পর আরেক কাপ—এভাবে কখন যে কয়েক কাপ হয়ে যায়, অনেকেই খেয়াল করেন না।

চা-কফি একেবারে নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ ভালো অভ্যাস নয়। বিশেষ করে যদি চা-কফির কারণে আপনার পানি পান কমে যায়, তাহলে সমস্যা হতে পারে।

গরমে তাই চা-কফির পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য উপযুক্ত তরল গ্রহণের দিকে নজর দিন।

৪. অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও মিষ্টি পানীয়ের ওপর নির্ভর করা

গরমে ঠান্ডা কোমল পানীয় খেতে বেশ আরাম লাগে। কিন্তু তৃষ্ণা মেটানোর জন্য বারবার চিনিযুক্ত কোমল পানীয় পান করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়।

এসব পানীয় সাময়িকভাবে ঠান্ডা অনুভূতি দিতে পারে, কিন্তু এগুলোকে নিয়মিত পানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এর পরিবর্তে পরিমিত পানি, উপযুক্ত তরল খাবার এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।

৫. খুব ঠান্ডা পানীয় অতিরিক্ত পান করা

গরমে বাইরে থেকে এসে অনেকেই এক গ্লাস বরফঠান্ডা পানি বা পানীয় একেবারে দ্রুত পান করেন। ঠান্ডা পানীয় পান করলেই যে শরীরের ক্ষতি হবেই—এমন কথা ঠিক নয়। তবে অতিরিক্ত বরফঠান্ডা পানীয় অনেকের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে খুব গরম অবস্থায় এসে একসঙ্গে অনেক ঠান্ডা পানীয় পান করার পরিবর্তে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক বা সহনীয় তাপমাত্রার পানি পান করা আরামদায়ক হতে পারে।

মূল বিষয় হলো—পানীয়টি ঠান্ডা কি না তার চেয়ে আপনি পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করছেন কি না এবং আপনার শরীর সেটি কীভাবে গ্রহণ করছে।

৬. খালি পেটে দীর্ঘ সময় থাকা

গরমের কারণে অনেকের ক্ষুধা কমে যায়। ফলে কেউ কেউ সকালের নাশতা বাদ দেন কিংবা দুপুরের খাবার অনেক দেরিতে খান।

কিন্তু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি হতে পারে। গরমের সঙ্গে যদি পানিশূন্যতাও যুক্ত হয়, তাহলে শরীর আরও দুর্বল লাগতে পারে।

তাই খুব ভারী খাবার না হলেও নিয়মিত ও পরিমিত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৭. অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া

গরমে ঝাল, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে অনেকের অস্বস্তি, বুকজ্বালা বা হজমের সমস্যা হতে পারে।

অবশ্য সবার শরীরের প্রতিক্রিয়া এক নয়। তবুও গরমের সময় প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবারের ওপর নির্ভর না করে তুলনামূলক হালকা ও সুষম খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন—

  • মৌসুমি শাকসবজি
  • ফল
  • ডাল
  • মাছ
  • পরিমিত পরিমাণ ভাত বা রুটি
  • প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার

অর্থাৎ গরম বলে না খেয়ে থাকা নয়, বরং সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৮. খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে খাওয়া

গরমের সময় খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে জীবাণু বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে মাংস, মাছ, দুধ, ডিম বা অন্যান্য পচনশীল খাবারের ক্ষেত্রে সংরক্ষণের ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকা দরকার।

তাই—

  • রান্না করা খাবার অযথা দীর্ঘ সময় বাইরে রাখবেন না।
  • খাবার ঢেকে রাখুন।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদভাবে ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করুন।
  • দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক রং বা স্বাদ পরিবর্তন হলে খাবার না খাওয়াই নিরাপদ।

গরমের সময় খাদ্যজনিত অসুস্থতা এড়াতে খাবারের পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৯. ঘুম কমিয়ে দেওয়া

গরমে রাতে ঘুমাতে অস্বস্তি হওয়া খুব স্বাভাবিক। অনেকেই ঘুম না আসায় রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার করেন। এরপর সকালে দেরিতে ওঠেন এবং দিনের স্বাভাবিক রুটিন নষ্ট হয়ে যায়।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা এবং বিরক্তি বাড়তে পারে।

ঘুমানোর ঘরটি যতটা সম্ভব আরামদায়ক রাখুন। বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন এবং ঘুমের আগে অতিরিক্ত ভারী খাবার বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন।

১০. খুব ভারী পোশাক পরা

গরমে মোটা ও আঁটসাঁট পোশাক শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। ঘাম শরীরে আটকে থাকলে বিরক্তি ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।

গরমের দিনে সাধারণত হালকা, আরামদায়ক ও বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক বেশি সুবিধাজনক।

বিশেষ করে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে পোশাক নির্বাচনের দিকে একটু বেশি মনোযোগ দিন।

১১. ব্যায়াম একেবারে বন্ধ করে দেওয়া

গরম পড়লেই অনেকে ব্যায়াম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। আবার কেউ কেউ আগের মতোই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কঠিন ব্যায়াম করতে থাকেন। দুটোই সব মানুষের জন্য আদর্শ পদ্ধতি নয়।

শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু গরমের সময় সময় ও পরিবেশ বিবেচনা করে ব্যায়াম করা উচিত।

উদাহরণ হিসেবে—

  • খুব গরম সময়ে কঠিন ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
  • সম্ভব হলে সকালে বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করুন।
  • পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করুন।
  • মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করলে ব্যায়াম বন্ধ করুন।

ব্যায়াম করতে গিয়ে শরীরের সংকেত উপেক্ষা করা উচিত নয়।

১২. গরমে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি বা বন্ধ ঘরে থাকা

বন্ধ গাড়ি বা অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন গরম জায়গায় দীর্ঘ সময় থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে শিশু বা বয়স্ক মানুষকে গরম গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া কখনোই নিরাপদ নয়।

কাজের কারণে গরম পরিবেশে থাকতে হলে নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করা গুরুত্বপূর্ণ।

১৩. রোদ থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়া

প্রচণ্ড গরমে বাইরে থাকার পর অনেকে দ্রুত খুব ঠান্ডা ঘরে ঢুকে পড়েন কিংবা বরফঠান্ডা পানি পান করেন। এতে কারও কারও শরীরে অস্বস্তি হতে পারে।

বাইরে থেকে এসে কিছুক্ষণ স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নিয়ে শরীরকে আরাম দেওয়া ভালো। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান বা এসির আরাম নেওয়া যেতে পারে।

এখানে মূল কথা হলো—শরীরকে হঠাৎ চরম তাপমাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে না ফেলা।

১৪. মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত দুর্বলতাকে গুরুত্ব না দেওয়া

গরমে মাথা ঘুরছে, প্রচণ্ড দুর্বল লাগছে, বমি বমি ভাব হচ্ছে কিংবা অস্বাভাবিকভাবে শরীর খারাপ লাগছে—এগুলোকে সবসময় সাধারণ ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

তাপজনিত অসুস্থতা গুরুতর পর্যায়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যদি শরীর খুব গরম হয়ে যায়, বিভ্রান্তি দেখা দেয়, অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা হয় বা আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া জরুরি।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

১৫. ত্বকের যত্ন সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা

গরমে ঘাম ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ত্বকে নানা ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বারবার ঘামলেও শরীর পরিষ্কার না রাখা কিংবা ঘামে ভেজা পোশাক দীর্ঘ সময় পরে থাকা অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, ঘামে ভেজা পোশাক পরিবর্তন করা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

বাইরে গেলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকেও ত্বককে সুরক্ষিত রাখা দরকার। প্রয়োজনে উপযুক্ত সানস্ক্রিন, ছাতা বা অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবহার করা যেতে পারে।

১৬. শুধু তৃষ্ণা মেটানোর দিকে নজর দিয়ে খাবারের পুষ্টি ভুলে যাওয়া

গরমে অনেকেই শুধু পানি, শরবত বা ঠান্ডা পানীয়ের দিকে মনোযোগ দেন। কিন্তু শরীরের জন্য সুষম খাবারও দরকার।

অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর থেকে পানি ও কিছু ইলেক্ট্রোলাইটও হারাতে পারে। তাই খাবারে বৈচিত্র্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত লবণ বা ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণ করাও ঠিক নয়। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

গরমে সুস্থ থাকার সহজ কিছু অভ্যাস

গরমে কিছু অভ্যাস এড়িয়ে চলার পাশাপাশি কয়েকটি ভালো অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করা যায়। খুব কঠিন কিছু করার প্রয়োজন নেই। বরং ছোট ছোট পরিবর্তনই অনেকটা পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

যেমন—

  • নিয়মিত পানি পান করুন।
  • তীব্র রোদে অপ্রয়োজনীয় অবস্থান কমান।
  • বাইরে গেলে ছাতা, টুপি বা উপযুক্ত পোশাক ব্যবহার করুন।
  • হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন।
  • খাবার পরিষ্কার ও নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করুন।
  • অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও চিনিযুক্ত পানীয় কমান।
  • পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন।
  • গরমের সময় শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন।
  • শিশু ও বয়স্কদের দিকে বিশেষ নজর রাখুন।
  • বাইরে কাজ করলে নিয়মিত বিশ্রাম নিন।

শেষ কথা

গরম নিজে কোনো শত্রু নয়, কিন্তু গরমের সঙ্গে আমাদের ভুল অভ্যাস যুক্ত হলে শরীরের ওপর চাপ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। অনেক সময় বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার হয় না—শুধু কিছু ভুল অভ্যাস বাদ দিলেই গরমের দিনগুলো অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের শরীরের সংকেত বুঝতে শেখা। অতিরিক্ত তৃষ্ণা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে শরীরের তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে, বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া জরুরি।

মনে রাখবেন, গরমে সুস্থ থাকার জন্য শুধু ঠান্ডা কিছু খাওয়া যথেষ্ট নয়। দরকার পর্যাপ্ত তরল, নিরাপদ খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সঠিক পোশাক, রোদ থেকে সুরক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপন।

গরমের সময় তাই নিজের যত্ন নিন, পরিবারের বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের খেয়াল রাখুন এবং শরীর খারাপ লাগলে সেটিকে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। একটু সচেতনতা অনেক বড় বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম