লোকমান হাকিমের সন্তানের প্রতি ১০টি উপদেশ—প্রত্যেক বাবা-মায়ের শোনা উচিত!

সন্তান আল্লাহর দেওয়া বড় একটি আমানত। একজন বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শুধু সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়ানো, ভালো চাকরির উপযোগী করে তোলা বা আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা নয়; বরং তাকে ঈমানদার, সৎ, বিনয়ী ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। এই দিক থেকে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত লোকমান হাকিমের তাঁর সন্তানের প্রতি দেওয়া উপদেশগুলো আমাদের জন্য অসাধারণ একটি শিক্ষাব্যবস্থা।

সূরা লোকমানের ১২ থেকে ১৯ নম্বর আয়াতে লোকমান হাকিমের জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং তাঁর সন্তানের প্রতি হৃদয়স্পর্শী নসিহত তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, তিনি লোকমানকে হিকমত বা প্রজ্ঞা দান করেছিলেন এবং তাকে কৃতজ্ঞ হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কুরআনে লোকমানকে নবী বলা হয়নি; অধিকাংশ আলেমের মতে তিনি ছিলেন আল্লাহর একজন নেক ও প্রজ্ঞাবান বান্দা। তাঁর উপদেশগুলো মূলত কুরআনের আয়াত থেকেই জানা যায়। আর তাঁর প্রথম উপদেশ—শিরক থেকে বেঁচে থাকা—রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেও সাহাবিদের সামনে উল্লেখ করেছেন। সহিহ বুখারির ৩৪২৯ নম্বর হাদিসে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে।

১. সন্তানকে প্রথমেই তাওহিদের শিক্ষা দিন

লোকমান হাকিম তাঁর সন্তানকে প্রথম যে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন তা হলো—

“হে আমার প্রিয় সন্তান! আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৩

খেয়াল করুন, তিনি উপদেশ শুরু করেছেন নামাজ, পড়াশোনা কিংবা অর্থ উপার্জনের কথা দিয়ে নয়; বরং আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করার শিক্ষা দিয়ে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ এই আয়াতের ব্যাখ্যা হিসেবে বলেছেন, ‘জুলুম’ দ্বারা এখানে শিরক বোঝানো হয়েছে। এটি সহিহ বুখারি ৩৪২৯ নম্বর হাদিসে বর্ণিত।

অতএব বাবা-মায়ের উচিত ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে শেখানো—আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, তিনিই রিজিকদাতা, তিনিই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন এবং ইবাদতের একমাত্র যোগ্য।

২. আল্লাহর শুকরিয়া এবং বাবা-মায়ের কৃতজ্ঞতা শেখান

লোকমানের উপদেশের ধারাবাহিকতায় আল্লাহ বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণের কথা উল্লেখ করেছেন—

“আমার প্রতি এবং তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৪

এখানে আল্লাহর শুকরিয়ার সঙ্গে বাবা-মায়ের কৃতজ্ঞতাকে পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে মায়ের কষ্টের কথা আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—গর্ভধারণ, দুর্বলতার পর দুর্বলতা এবং দীর্ঘ সময় সন্তানকে লালন-পালন করা।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিলেন, মানুষের মধ্যে তার উত্তম আচরণের সবচেয়ে বেশি হকদার কে? তিনি বলেন, “তোমার মা।” লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলে তিনি আবারও বলেন, “তোমার মা”; তৃতীয়বারও বলেন, “তোমার মা”; এরপর বলেন, “তোমার বাবা।” —সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।

তাই সন্তানকে শুধু “বাবা-মায়ের কথা শুনবে” বললেই হবে না; বরং তাদের ত্যাগের গল্পও বোঝাতে হবে।

৩. আল্লাহর কাছে নিজের প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে

লোকমান হাকিম তাঁর সন্তানকে অত্যন্ত গভীর একটি শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন—

“হে আমার সন্তান! কোনো কাজ যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, অতঃপর তা কোনো পাথরের ভেতরে, আকাশে অথবা পৃথিবীতে থাকে, আল্লাহ তা উপস্থিত করবেন।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৬

অর্থাৎ মানুষের কোনো কাজই আল্লাহর কাছে গোপন নয়।

সন্তানের মধ্যে যদি এই বিশ্বাস তৈরি হয় যে—“আমি একা থাকলেও আল্লাহ আমাকে দেখছেন”—তাহলে তার চরিত্র গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “ইহসান হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর তুমি তাঁকে দেখতে না পেলেও তিনি তোমাকে দেখছেন।” —সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।

আজকের সন্তান মোবাইল, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। বাবা-মায়ের চোখ এড়িয়ে সে কী করছে, তা সবসময় দেখা সম্ভব নয়। তাই নজরদারির চেয়ে আল্লাহর নজরদারির অনুভূতি তৈরি করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৪. নামাজের অভ্যাস গড়ে তুলুন

লোকমান হাকিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ—

“হে আমার সন্তান! সালাত কায়েম করো।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৭

নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একজন মুসলিমের জীবনের শৃঙ্খলা, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক এবং আত্মশুদ্ধির অন্যতম মাধ্যম।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও…” —সুনান আবু দাউদ, ৪৯৫।

সন্তানকে নামাজ শেখানোর ক্ষেত্রে শুধু বকাঝকা নয়, বাবা-মায়ের নিজেদেরও নামাজের ব্যাপারে আদর্শ হতে হবে। সন্তান যদি দেখে বাবা আজান শুনেও মোবাইলে ব্যস্ত, মা নামাজকে সবসময় পরে করার বিষয় বানিয়ে রেখেছেন, তাহলে কথার চেয়ে আচরণের প্রভাবই বেশি হবে।

৫. ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করুন

লোকমান তাঁর সন্তানকে বলেছেন—

“সৎকাজের আদেশ দাও।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৭

অর্থাৎ সন্তান যেন শুধু নিজে ভালো থাকে না; বরং অন্যদেরও ভালো কাজের দিকে উৎসাহিত করে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে শিশু বয়সেই তাকে সবার ভুল ধরার দায়িত্ব দিয়ে দিতে হবে। বরং তাকে শেখাতে হবে—ভালো কাজকে ভালোবাসা, সুন্দরভাবে মানুষকে উৎসাহ দেওয়া এবং নিজের আচরণের মাধ্যমে ভালো উদাহরণ তৈরি করা।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের দিকে পথ দেখায়, সে তা সম্পাদনকারীর অনুরূপ সওয়াব পাবে।” —সহিহ মুসলিম, ১৮৯৩।

৬. অন্যায় থেকে বিরত রাখার সাহস শেখান

লোকমানের উপদেশের আরেকটি অংশ—

“অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৭

একজন সন্তানকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন বন্ধুর চাপ, সামাজিক প্রবণতা কিংবা জনপ্রিয়তার কারণে সে অন্যায়কে ভালো মনে না করে।

তবে অন্যায় থেকে নিষেধ করার ক্ষেত্রেও ইসলাম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও উত্তম পদ্ধতির শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমাদের কেউ কোনো অন্যায় দেখতে পেলে সে যেন তা তার হাত দ্বারা পরিবর্তন করে; যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে মুখ দ্বারা; আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করে।” —সহিহ মুসলিম, ৪৯।

অতএব সন্তানকে সাহসী হতে শেখানোর পাশাপাশি ভদ্রতা ও প্রজ্ঞাও শেখাতে হবে।

৭. বিপদে ধৈর্য ধরতে শেখান

লোকমান হাকিম বলেন—

“তোমার ওপর যে বিপদ আসে, তাতে ধৈর্য ধারণ করো।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৭

জীবনে সবসময় সন্তান যা চাইবে তা পাবে না। পরীক্ষায় ব্যর্থতা, বন্ধুত্বে সমস্যা, চাকরি না পাওয়া, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা জীবনের নানা হতাশা আসতে পারে।

শৈশব থেকেই যদি তাকে শেখানো হয়—“ব্যর্থতা মানেই তুমি শেষ হয়ে গেছ”—তাহলে সে সহজেই ভেঙে পড়বে। বরং তাকে শেখাতে হবে, মুমিন চেষ্টা করে, ভুল থেকে শেখে, দোয়া করে এবং ধৈর্য ধরে আবার উঠে দাঁড়ায়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মুমিনের ব্যাপারটি আশ্চর্যজনক; তার সব অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ পেলে সে শুকরিয়া আদায় করে, আর দুঃখ-কষ্ট এলে ধৈর্য ধারণ করে—এ দুটিই তার জন্য কল্যাণ। —সহিহ মুসলিম, ২৯৯৯।

৮. অহংকার থেকে দূরে থাকুন

লোকমান তাঁর সন্তানকে সতর্ক করেছেন—

“মানুষের প্রতি অবজ্ঞাভরে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং পৃথিবীতে অহংকারের সঙ্গে চলাফেরা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো অহংকারী আত্মম্ভরীকে পছন্দ করেন না।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৮

আজকের সমাজে অর্থ, সৌন্দর্য, শিক্ষা, চাকরি, জনপ্রিয়তা কিংবা সামাজিক মর্যাদা নিয়ে অহংকার করার সুযোগ অনেক। সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই বোঝাতে হবে—মানুষের মূল্য শুধু টাকা বা বাহ্যিক অবস্থানে নয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” —সহিহ মুসলিম, ৯১।

অহংকারের বিপরীতে সন্তানকে বিনয় শেখাতে হবে। সে যেন ছোট-বড়, ধনী-গরিব, পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গে সম্মানের আচরণ করে।

৯. চলাফেরায় ভারসাম্য ও শালীনতা রাখুন

লোকমান বলেন—

“তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৯

অর্থাৎ আচরণে ভারসাম্য থাকবে; অতি অহংকার নয়, আবার অতি প্রদর্শনও নয়।

সন্তানের পোশাক, কথা, চলাফেরা, সামাজিক আচরণ—সবকিছুর মধ্যে শালীনতা থাকা প্রয়োজন। তাকে শেখাতে হবে যে ইসলাম শুধু মসজিদের ভেতরের জীবন নয়; মানুষের সঙ্গে আচরণ, হাঁটা, কথা বলা—সবকিছুর মধ্যেই ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।

১০. কণ্ঠস্বর নিচু ও সুন্দর ব্যবহার করুন

লোকমানের শেষ উপদেশগুলোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক শিক্ষা—

“তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো; নিশ্চয়ই সব কণ্ঠের মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় কণ্ঠ হলো গাধার কণ্ঠ।”
—সূরা লোকমান, ৩১:১৯

এর মাধ্যমে সন্তানকে রাগের সময় চিৎকার না করা, মানুষের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলা এবং অশোভন শব্দ ব্যবহার না করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।” —সহিহ বুখারি, ৬০১৮; সহিহ মুসলিম, ৪৭।

আজকের যুগে এই শিক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সন্তানের মুখের কথা শুধু সামনাসামনি নয়—কমেন্ট, মেসেজ, পোস্ট ও ভিডিওর মাধ্যমেও মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা

লোকমান হাকিমের নসিহতগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তিনি সন্তানকে শুধু “এটা করো, ওটা করো” বলেননি; বরং তার বিশ্বাস, চরিত্র, ইবাদত, সামাজিক আচরণ ও মানসিক শক্তি—সব দিক গড়ে তোলার শিক্ষা দিয়েছেন।

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—তিনি সন্তানকে সম্বোধন করেছেন “ইয়া বুনাইয়া”, অর্থাৎ অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ ভাষায় “হে আমার প্রিয় সন্তান”। এতে বোঝা যায়, সন্তানকে সংশোধন করার ক্ষেত্রেও ভালোবাসা ও মমতার প্রয়োজন।

রাসুলুল্লাহ ﷺ শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন। তিনি হাসান ও হুসাইন (রা.)-কে ভালোবাসতেন, তাদের আদর করতেন এবং শিশুদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের গুরুত্ব শিক্ষা দিয়েছেন। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে তাঁর শিশুদের প্রতি ভালোবাসা ও স্নেহের বহু ঘটনা রয়েছে।

সুতরাং সন্তান ভুল করলে শুধু শাস্তি নয়—প্রথমে বুঝতে হবে, সে কেন ভুল করেছে। তাকে অপমান না করে বোঝাতে হবে। কারণ ভয় দিয়ে সন্তানকে কিছুদিন নিয়ন্ত্রণ করা যায়; কিন্তু ভালোবাসা, ঈমান ও বিবেক দিয়ে তাকে সারাজীবনের জন্য সঠিক পথে গড়ে তোলা যায়।

উপসংহার

লোকমান হাকিমের সন্তানের প্রতি উপদেশগুলো আসলে শুধু তাঁর সন্তানের জন্য ছিল না; কুরআন এগুলো আমাদের সামনে সংরক্ষণ করেছে যেন পৃথিবীর সব বাবা-মা এগুলো থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

এই দশটি শিক্ষাকে সংক্ষেপে এভাবে মনে রাখা যায়—

১. তাওহিদ ও শিরকমুক্ত ঈমান।
২. আল্লাহ ও বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
৩. প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি।
৪. নামাজ প্রতিষ্ঠা।
৫. ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ।
৬. অন্যায় থেকে বিরত রাখার সাহস।
৭. বিপদে ধৈর্য।
৮. অহংকার থেকে মুক্ত থাকা।
৯. চলাফেরায় ভারসাম্য ও শালীনতা।
১০. নরম ও সুন্দর ভাষায় কথা বলা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সন্তানকে শুধু উপদেশ দিলে হবে না; বাবা-মাকে নিজের জীবনেও সেই উপদেশের বাস্তব নমুনা হতে হবে। বাবা নামাজ পড়লে সন্তান নামাজ শিখবে, মা ধৈর্য ধরলে সন্তান ধৈর্য শিখবে, বাবা-মা সত্য বললে সন্তান সত্যবাদিতা শিখবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের ঈমানদার, নামাজি, বিনয়ী, সৎ ও নেককার হিসেবে গড়ে তোলার তাওফিক দিন এবং আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল বাবা-মা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মূল কুরআনিক ভিত্তি: সূরা লোকমান, আয়াত ১২–১৯। লোকমানের প্রথম নসিহত—শিরক থেকে বেঁচে থাকা—রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সহিহ হাদিসেও সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে: সহিহ বুখারি ৩৪২৯

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম